অযু কি? কিভাবে সহীহ্ অযু করতে হয়?

যু -  সহীহ্ ভাবে করার পদ্ধতি 

অযু কি? কিভাবে সহীহ্ অযু করতে হয়?
অযু কি? কিভাবে সহীহ্ অযু করতে হয়?

1.     আল্লাহ তা'আলা বলেন : যদি তোমরা অপবিত্র থাক তাহলে বিশেষভাবে পবিত্র হবে....। [সূরা মায়িদা-৬]

2.     আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন : তোমার পরিবারবর্গকে নামাযের আদেশ দাও...। [সূরা তাহা-১৩২] © রাসূল (সাঃ) বলেছেন : জিবরাঈল (আঃ) দুই দিন পাঁচ ওয়াক্তের নামাযে আমার ইমামতি করে আমাকে নামায আদায়ের সময় ও নিয়ম-কানুন শিক্ষা দিয়েছেন। (মুসলিম/১২৫৪, আবূ দাউদ/৩৯৩)

3.     রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা নামায আদায় কর, যেভাবে আমাকে নামায আদায় করতে দেখছ। [বুখারী/৬০১)

 

অযু করার পদ্ধতি

·        আল্লাহ তা'আলা বলেন : হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নামাযের জন্য প্রস্তুত হবে তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত যৌত করবে এবং তোমাদের মাথা মাসাহ করবে এবং পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করবে...। [সূরা মায়িদা-6]

·        যু ছাড়া নামায কবুল হয়না। [মুসলিম/৪২৮] (তাই সহীহ পদ্ধতিতে উযু করতে হবে) নামাযের চাবি হল যু (তিরমিযী/৩)

·        অযু সময় পানি অপচয় করা নিষেধ। [ যে কোন সম্পদ অপচয় করা নিষেধ। সূরা আন'আম-১৪১, আ'রাফ-৩১]

·        অযু শুরু করতে হবে ডান দিক থেকে। (মুসলিম/৫০৭) (প্রতিটি কাজ ডান দিয়ে শুরু করতে হবে)

·        অযুর অঙ্গ একবার/দুইবার/তিনবার ধৌত করা যায়। [বুখারী/১৫৯-১৬১) © উর্দূ শুরু করার সময় 'বিসমিল্লাহ' বলতে হবে। [ইবন মাজাহ/৩১৯) (শুরুর পূর্বে নিয়ত পাঠ করা বা অন্য কোন পাঠ করার কথা হাদীসে নেই, তবে মনে মনে উযূর সংকল্প/নিয়ত করতে হবে)

·        প্রথমে কব্জি পর্যন্ত দুই হাত ধৌত করতে হবে। [বুখারী/১৮৫) এ সময় হাতের আঙ্গুল খিলাল করতে হবে।

·        তারপর কুলি করতে হবে এবং নাকে পানি দিয়ে বাম হাত দ্বারা ঝেড়ে পরিষ্কার করতে হবে। [বুখারী/১৬১) এরপর মুখমণ্ডল সম্পূর্ণ ধৌত করতে হবে। [মুসলিম/৪৪৬] (মুখমণ্ডলেরসীমা : দৈর্ঘ্য-কপালের ঊর্ধ্বসীমা থেকে থুতনির নিম্নদেশ পর্যন্ত এবং গ্রন্থ- এক কান থেকে অন্য কান পর্যন্ত)।

·        মুখমন্ডল ধৌত করার সময় দাঁড়ি খিলাল করতে হবে। (তিরমিযী ৩১/উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করতে হবে। [বুখারী/১৮৫, নাসাঈ /৯৮)

·        তারপর দুই হাত দিয়ে সম্পূর্ণ মাথা মাসাহ করতে হবে...। (সূরা মায়িদা-৬)

·        মহিলাদেরকেও পুরুষের ন্যায় একই পদ্ধতিতে মাথা মাসাহ করতে হবে। [বুখারী/পরিচ্ছদ-১৩৪)

·        মাথা মাসাহ করার পদ্ধতি : উভয় হাত দ্বারা মাথার সম্মুখভাগ থেকে শুরু করে মাথার পিছন পর্যন্ত নিয়ে পুনরায় মাথার পিছন থেকে মাসাহ করে উভয় হাত যেখান থেকে শুরু করা হয়েছিল সেখানে ফিরিয়ে আনতে হবে। (চিত্র নং-১, ২, ৩) [বুখারী/১৮৫, মুসলিম / ৪৪৬, তিরমিযী/৩২] (মাথা চার ভাগের এক ভাগ বা তিন আঙ্গুলের পরিমান মাসাহ করার কথা সহীহ হাদীসে নেই)

·        অতঃপর উভয় কান মাসাহ করতে হবে। উভয় কান মাসাহর পদ্ধতি : শাহাদাত আঙ্গুলিদ্বয় দুই কানের ছিদ্রপথে প্রবেশ করে বৃদ্ধাঙ্গুলিদ্বয় কানের বাইরের অংশে রেখে দুই কানের ভিতর ও বাহির উভয় অংশ মাসাহ করতে হবে । (ইবন মাজাহ /৪৩৯) (ঘাড় মাসাহ করার কথা সহীহ হাদীসে নেই)

·        এরপর টাখনু পর্যন্ত উভয় পা ধৌত করতে হবে। [বুখারী/১৮৫. মুসলিম / ৪৪৬/ পা ধৌত করার সময় পায়ের আঙ্গুল খিলাল করতে হবে। [তিরমিযী ৩৮/ © উযূ শেষে এই দু'আ পাঠ করতে হয় ঃ “আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।” (মুসলিম/৪৪৪) (উক্ত দু'আ পাঠ করার সময় আকাশের দিকে তাকানো বা অঙ্গুলি উঁচু করে আকাশের দিকে তাকানো আবূ দাউদের হাদীসটি দুর্বল)

·        অযূ করার সময় উযূর কোন অঙ্গের সামান্য স্থানও যদি পানি দ্বারা না ভিজে অর্থাৎ শুকনা থাকে তাহলে পুনরায় নতুনভাবে উযূ করতে হবে। [মুসলিম/৪৬৭]

·        যে ব্যক্তি সুন্দর করে উযূ করবে এবং নামায আদায় করবে, তার পরবর্তী ওয়াক্তের নামায আদায় করা পর্যন্ত মধ্যবর্তী যত পাপ আছে, সব ক্ষমা করে দেয়া হবে । [বুখারী/১৬১, মুসলিম/৪৩১]

 

অযু ভঙ্গের কারণ

·        প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোন কিছু বের হওয়া। যেমন প্রস্রাব, পায়খানা, বাতাস, বীর্য, রক্ত বা অন্য কোন তরল পদার্থ ইত্যাদি। [বুখারী/১৩৭, মুসলিম/৫৮৬]

·        জ্ঞান শূন্য হওয়া। যেমন গভীর নিদ্রা, সংজ্ঞাহীনতা বা নেশাগ্রস্থের কারণে। [আবু দাউদ/200/

·        বিনা আবরণে লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে। [ তিরমিযী/৮২] © যে কারণে গোসল ফরয হয়ে যায় তা সংঘটিত হওয়া। [বুখারী/২৮৪, মুসলিম/৫৯১]

·        উটের গোশত খেলে। (মুসলিম/৬৮৭]

 

তায়াম্মুম করার পদ্ধতি

·        তোমরা যদি পীড়িত হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেহ শৌচাগার (প্রস্রাব-পায়খানার স্থান) হতে আগমন করে, অথবা তোমরা স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হও এবং পানি না পাও তাহলে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করবে এবং তোমাদের মুখমন্ডল ও হাত মাসাহ করবে...। [সূরা মায়িদা-৬]

·        তায়াম্মুম করার সময় উভয় হাত মাটিতে মেরে তারপর তা ঝেড়ে ফেলে মুখমন্ডল একবার মাসাহ করতে হবে ও উভয় হাতের কব্জি পর্যন্ত একবার প্রথমে বাম হাতের তালু দিয়ে ডান হাতের পিঠ মাসাহ করতে হবে। তারপর ডান হাতের তালু দিয়ে বাম হাতের পিঠ মাসাহ করতে হবে। [মুসলিম/৩০৪, তিরমিযী/১৪৪]

·        মুকীম (স্থায়ী বাসিন্দা) অবস্থায় পানি না পেলে এবং নামায ছুটে যাওয়ার ভয় থাকলে (গোসলের পরিবর্তে) তায়াম্মুম করা যাবে। [বুখারী/পরিঃ ২৩৫]

 

মোজার উপর মাসাহ

·        উযূ করার পর অর্থাৎ উযূ থাকা অবস্থায় পরিহিত পবিত্র মোজার উপর মাসাহ করা যাবে। [বুখারী/২০৬, মুসলিম/৫২৩]

(মোজার উপর মাসাহ করার নিয়ম : হাতের আঙ্গুলসমূহ উযূর পানিতে ভিজিয়ে উক্ত আঙ্গুলসমূহ পায়ের আঙ্গুলের মাথায় রেখে টাখনু পর্যন্ত টেনে আনতে হবে। উভয় পা একবার করে মাসাহ করতে হবে। শুধুমাত্র উভয় পায়ের উপরের অংশ মাসাহ করতে হবে, নিচের অংশ মাসাহ করতে হবেনা)

·        মোজার উপর মাসাহ বলবত থাকার সময়সীমা মুসাফিরের জন্য ৩ দিন ৩ রাত এবং গৃহে অবস্থানকারীর জন্য ১ দিন ১ রাত। [মুসলিম/৫৩০, নাসাঈ /১২৮)

·        রাসূল (সাঃ) উযূ করার সময় কাপড়ের মোজার উপরও মাসাহ করেছেন। [তিরমিযী/৯৯]

 

মিসওয়াক করা প্রসঙ্গ

রাসূল (সাঃ) বলেছেন : আমার উম্মাতের জন্য যদি কষ্টকর মনে না করতাম তাহলে প্রতিবার উযূর সময় অথবা তাদের প্রত্যেক নামাযের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম। [বুখারী/অনুঃ ৮৫৬, মুসলিম / ৪৮০, নাসাঈ/৫, তিরমিযী/২২]