![]() |
| সহীহ্ ইসলাম শিক্ষা - দোয়া ও ফজিলত |
দোয়ার প্রকৃত অর্থ হলো চাওয়া। আর প্রয়োজনে আল্লাহর কাছে মনের আকুতি নিয়ে চাওয়াই হলো ইবাদত। আমরা সবাই আল্লাহর মুখাপেক্ষী। তাঁর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জন ছাড়া আমাদের পক্ষে দুনিয়ার শান্তি সমৃদ্ধি লাভ ও পরকালে মুক্তি লাভ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
দোয়া শব্দের অর্থ আল্লাহর কাছে চাওয়া, প্রার্থনা করা। মুনাজাত দোয়া এর উর্দু শব্দ। নিজের মনের সব আকুতি নিয়ে বিনয়ের সঙ্গে আল্লাহ রব্বুল আলামিনের কাছে কল্যাণ ও উপকার লাভের জন্য এবং ক্ষতি ও অপকার থেকে বেঁচে থাকার জন্য প্রার্থনা করাই হলো দোয়া। রসুল (সা.) বলেছেন, দোয়াই ইবাদত। (তিরমিজি)।
আল্লাহ বলেন, 'তোমাদের রব বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিঃসন্দেহে যারা অহংকারের কারণে আমার ইবাদত থেকে নাফরমানি করে অচিরেই তারা অপমানিত ও অপদস্থ হবে এবং জাহান্নামে প্রবেশ করবে। ' (সুরা আল মোমেন, আয়াত ৬০)।
...এই আয়াতটিতে মানুষকে পরকালের সৌভাগ্য অর্জনের জন্য আল্লাহর কাছে চাইতে বলা হয়েছে।
দোয়া বা ইবাদত ছাড়া পরকালে মুক্তির কোনো উপায় আমাদের কারও নেই। আমরা প্রত্যেকটি মানুষই কিছু না কিছু সমস্যায় জর্জরিত। কারও অসুস্থতা, কারও অর্থনৈতিক সমস্যা, কারও পারিবারিক সমস্যা, কারও প্রফেশনে সমস্যা। অর্থাৎ আমাদের জীবন সমস্যাবহুল। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের একমাত্র আল্লাহর শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।
সমস্যা সমাধানের জন্য তাঁর কাছে বিনয়ের সঙ্গে চাইতে হবে। কারণ আল্লাহ তো তাঁর বান্দাকে দেখেন। তার অভাব, অনটন, বিপদ, সমস্যা সব বিষয়ে তিনি ওয়াকিবহাল। সুতরাং যে যত বেশি আল্লাহকে স্মরণ করবে সে আল্লাহর তত নৈকট্য লাভ করতে পারবে। আর এই অনুভূতিগুলো যত বেশি দোয়ার মধ্যে প্রকাশ পায় তা অন্য ইবাদতে তেমনভাবে প্রকাশ পায় না। তাই দোয়াকে ইবাদতের সারবস্তু হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
দোয়া কবুল হওয়ারও কিছু শর্ত আছে।
- হারাম পরিত্যাগ করা।
- হালাল খাবার, হালাল পানীয়, হালাল ও পবিত্র কাপড় পরিধান করা।
- হারাম উপার্জনে সম্পৃক্ত থেকে দোয়া করলে সেই দোয়া কখনো কবুল হবে না বরং তা অকল্যাণই বয়ে আনবে।
- পৃথিবীতে যত অকল্যাণ ও মুসিবত আসে তা আল্লাহর ইচ্ছাতেই সংঘটিত হয়। সে জন্য নিয়তিকে দোষারোপ না করে আল্লাহর কাছে দোয়া করা আমাদের উচিত।
- আল্লাহ বলেন, 'পৃথিবীতে বা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের ওপর যে বিপর্যয় আসে আমি তা সংঘটিত করার আগেই বিস্তারিত বিবরণসহ একটি গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করে রেখেছি। যা আল্লাহর জন্য সহজ।
- এটা এ জন্য যে, তোমরা যা হারিয়েছো তাতে যেন তোমরা বিমর্ষ না হও এবং যা তিনি তোমাদের দিয়েছেন তার জন্যও যেন বেশি উৎফুল্লও না হও। আল্লাহ উদ্যত ও অহংকারীদের পছন্দ করেন না। ' (সুরা আল হাদিদ, আয়াত ২২-২৪)
দারুদ শারীফ
আল্লাহুম্মা
সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনও ওয়া
আলা আলি মুহাম্মাদ; কামা
সাল্লাইতা আলা ইবরাহিম ওয়া
আলা আলি ইবরাহিম; ইন্নাকা
হামিদুম মাঝিদ। আল্লাহুম্মা
বারিক আলা মুহাম্মাদিও ওয়া
আলা আলি মুহাম্মাদ; কামা
বারাকতা আলা ইবরাহিম ওয়া
আলা আলি ইবরাহিম; ইন্নাকা
হামিদুম মাঝিদ।
আয়াতুল কুরছি
আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল
হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম। লা তা’খুযুহু সিনাতুঁ
ওয়ালা নাঊম। লাহূ
মা ফিস্ সামা-ওয়াতি ওয়ামা ফিল
আরদ্বি। মান যাল্লাযী
ইয়াশফাউ’ ই’ন্দাহূ ইল্লা বিইজনিহি। ইয়া’লামু মা বাইনা
আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা
ইউহিতূনা বিশাইয়্যিম্ মিন ‘ইলমিহি ইল্লা
বিমা শা-আ’
ওয়াসিআ’ কুরসিইয়্যুহুস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল
আরদ্বি, ওয়ালা ইয়াউ’দুহূ হিফযুহুমা ওয়া
হুওয়াল ‘আলিইয়্যুল আ’জিম।
আয়াতুল কুরসীর ফযীলত: হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, হযরত রাসূলুল্লাহ (ছঃ) ফরায়েছেন, যে ব্যক্তি সকালবেলা আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে, সে ব্যক্তি এর বরকতে সন্ধ্যা পর্যন্ত যাবতীয় বিপদাপদ ও অপ্রীতিকর অবস্থা হতে মাহফুজ থাকবে। এবং যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় পাঠ করবে, সে ব্যক্তি সকাল পর্যন্ত নিরাপদে ও শান্তিতে থাকবে।
সুরা বাকারার শেষ তিন আয়াত
আ-মানাররাছূলু বিমাউনঝিলা ইলাইহি মির রাব্বিহী
ওয়াল মু’মিনূনা কুল্লুন আ-মানা বিল্লাহি ওয়া
মালাইকাতিহী ওয়া কুতুবিহী ওয়া
রুছুলিহী লা-নুফাররিকুবাইনা আহাদিম
মির রুছুলিহী ওয়া কা-লূ ছামি‘না ওয়াআতা‘না গুফরা-নাকা
রাব্বানা-ওয়া ইলাইকাল মাসীর। লা
- ইউকালিলফুল্লা-হু নাফছান ইল্লা-উছ‘আহা-লাহা-মা
কাছাবাত ওয়া ‘আলাইহা-মাকতাছাবাত
রাব্বানা-লা-তুআ-খিযনা
ইন নাছীনা-আও
আখতা’না-রাব্বানা
ওয়ালা-তাহমিল ‘আলাইনা-ইসরান
কামা-হামালতাহূ আলাল্লাযীনা মিন কাবলিনা-রাব্বানা-ওয়ালা তুহাম্মিলনা-মা-লা-তা-কাতা
লানা-বিহী ওয়া‘ফু‘আন্না-ওয়াগফিরলানা-ওয়ারহামনা-আনতা মাওলা-না-ফানসুরনা-‘আলাল কাওমিল কা-ফিরীন। (বাকারাহ)
সূরা হাশরের শেষ ২ আয়াত
হুআল্লা
হুল্লাজি লা-ইলাহা ইল্লা
হুয়া, আলিমুল গাইবী ওয়াশ
শাহাদাতি, হুয়ার রহমানুর রহিম। হুআল্লা হুল্লাজি
লা-ইলাহা ইল্লা
হুয়াল মালিকুল কুদ্দুসুস সালামুল
মু’মিনুল
মুহাইমিনুল আজিজুল জাব্বারুল মুতাকাব্বির। ছুবহানাল্লোহি আম্মা
ইয়ূশরিকুন। হুআল্লাহুল খলিকুল
বা-রিউল মুছাওওয়িরু
লাহুল আসমাউল হুসনা।
ইউছাব্বিহু লাহু মা ফিস-সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্ব; ওয়া
হুয়াল আজিজুল হাকিম।
(হাশর)
ইস্তেগফার
১. আসতাগফিরুল্লাহাল আজিমাল্লাজি লা-ইলাহা ইল্লা
হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া
আতুবু ইলাইহি।
আল্লাহর একত্তবাদ
২. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু
ওয়াহ্দাহু লা শারিকা লাহু,
লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল
হামদু ওয়া হুয়া আলা
কুল্লি শাইয়িন কাদির। (গুনাহ মাফের দোয়া)
প্রতিদিনের যিকির ও দোয়া
৩. সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি
ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু
ওয়াল্লাহু আকবার; ওয়া লা
হাওলা ওয়া লা কুয়্যাতা
ইল্লা বিল্লাহ।
৪. সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল
আজিম।
৫. লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ্ জালিমীন।
৬. আল্লাহুম্মা ইন্নি আস আলুকাল আফিয়া ফিদ্দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ।
৭. রব্বানা তাকাব্বাল মিন্না,
ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম
। ওয়াতুব আলাইনা, ইন্নাকা
আনতাত তাওয়্যাবুর রাহিম ।
৮. রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া
হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি
হাসানাতাও ওয়া কিনা আযাবাননার।
৯. রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বায়ানী ছাগীরা।
১০. আল্লাহুম্মা আজরিনী মিনার-নার।
১১. আল্লাহর ৯৯ নাম ও ইসমে আযমের সাথে দোয়া।
