নামায | কিভাবে সহীহ্ শুদ্ধ ভাবে পড়তে হয়? ধাপ-১

নামায প্রসঙ্গ


sohi.islam.shikkha.namaz
সহীহ্ শুদ্ধ ভাবে নামাজ

  • নির্দিষ্ট সময়ে নামায আদায় করা মু'মিনদের জন্য অবশ্য কর্তব্য। [সূরা নিসা-১০৩]
  • দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা ফরয। (মুসলিম/ ১২৫৪, তিরমিযী/২১৩, নাসাঈ /৪৬২, আবূ দাউদ/৩৯১)
  • মুসলিম ও কাফিরের মধ্যে পার্থক্যকারী আমল হল নামায। যে নামায ছেড়ে দিল সে কুফরী করল। [মুসলিম/১৫০, নাসাঈ / ৪৬৬, ইবন মাজাহ/১০৭৯] রাসূল (সাঃ) বলেছেন : যখন তোমাদের সন্তানদের বয়স সাত বছর হবে তখন তাদেরকে নামায আদায়ের নির্দেশ দিবে এবং তাদের বয়স যখন দশ বছর হবে তখন নামায আদায় না করলে তাদেরকে প্রহার করবে ( শাস্তি দিবে) এবং তাদের (ছেলে-মেয়েদের) বিছানা পৃথক করে দিবে। [আব্ দাউদ/৪৯৫, তিরমিযী / ৪০৭] রাসূল (সাঃ) বলেছেন যে ব্যক্তি আমাদের মত নামায আদায় করে, আমাদের কিবলামুখী হয়, আর আমাদের যবাহ করা প্রাণী খায় সেই মুসলিম, যার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যিম্মাদার। সুতরাং তোমরা আল্লাহর যিম্মাদারীতে বিষানাত করনা। [বুখারী/৩৮৪]


রাসূল (সাঃ) বলেছেন

এমন অনেক লোক আছে যারা নামায আদায় করে কিন্তু তাদের নামায পুরাপুরি কবুল না হওয়ায় পরিপূর্ণ সাওয়াব প্রাপ্ত হয়না। বরং তাদের কেহ ১০ ভাগের ১ ভাগ, ৯ ভাগের ১ ভাগ, ৮ ভাগের ১ ভাগ, ৭ ভাগের ১ ভাগ, ৬ ভাগের ১ ভাগ, ৫ ভাগের ১ ভাগ, ৪ ভাগের ১ ভাগ, তিনের একাংশ কিংবা অর্ধাংশ সাওয়াব প্রাপ্ত হয়ে থাকে। [আবূ দাউদ/৭৯০]
 
নামাযে কাতারবন্দী হওয়ার নিয়ম

  • নামায আরম্ভের সময় অবশ্যই কিবলামুখী হতে হবে। [বুখারী/৩৯০, নাসাঈ /৪৯১]
  • রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের নামাযে কাতার সোজা করে নাও। কেননা আমি আমার পিছনের দিক থেকেও তোমাদের দেখতে পাই। আনাস (রাঃ) বলেছেন : আমাদের প্রত্যেকেই তার পার্শ্ববর্তী ব্যক্তির কাঁধে কাঁধ এবং পায়ের সাথে পা মিলাতাম। [বুখারী/৬৮৭, আবূ দাউদ/৬৬২
  • নামাযের কাতারে মুক্তাদীরা পরস্পরের কাঁধে কাঁধ, পায়ের সাথে পা মিলিয়ে না দাঁড়ালে শাইতান ছোট ছোট বকরীর মত পরস্পরের মাঝে কাতারে প্রবেশ করে। [আবূ দাউদ/৬৬৭, নাসাঈ /৮১৮]
 
নামাযের ইকামাত

  • আযানের শব্দ জোড় সংখ্যায় এবং ইকামাতের শব্দ বেজোড় সংখ্যায় বলতে হয়। [বুখারী ৫৭৬, মুসলিম /৭২২, ইবন মাজাহ / 900 / ইকামাতের শব্দগুলি হল : আল্লাহু আকবার-২ বার, আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-১ বার, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ-১ বার, হাইয়া ‘আলাস সালাহ-১ বার, হাইয়া 'আলাল ফালাহ-১ বার, কাদ কামাতিস সালাহ-২ বার, আল্লাহু আকবার-২ বার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-১ বার ।
  • প্রত্যেক ফরয নামাযের জন্য বা কাযা ফরয নামায আদায়ের সময়েও ইকামাত দিতে হবে। [নাসাঈ /৬৬৬, তিরমিযী/১৭৯]
 
নামায আদায়ের পদ্ধতি

  • প্রত্যেক কাজ নিয়তের সাথে সম্পর্কিত। (বুখারী/১) নিয়ত এর অর্থ মনের সংকল্প বা অন্তরে খেয়াল করা। কিন্তু মুখে আস্তে বা জোরে উচ্চারণ করা নয়। নামায আদায় করার সময় রাসূল (সাঃ) মুখে নিয়ত (নাওয়ায় তুআন উসাল্লী...) উচ্চারণ করেছেন বলে সহীহ হাদীসে কোন প্রমাণ নেই)
  • নামায আরম্ভের সময় প্রথমে তাকবীর (আল্লাহু আকবার) বলতে হবে। [বুখারী/৬৯৬, নাসাঈ /৮৮৭]  নামায তাকবীরে তাহরীমা (নামায শুরুর প্রথমে আল্লাহু আকবার বলা ) দ্বারা শুরু হয় এবং সালাম ফিরানোর দ্বারা শেষ হয়। [তিরমিযী /২৩৮] রাসূল (সাঃ) নামাযে তাকবীরে তাহরীমা, রুকূ এবং রুকূ থেকে উঠার সময় উভয় হাত কাঁধ/কান বরাবর উঠাতেন। [বুখারী/৬৯৭, মুসলিম/৭৪৯, নাসাঈ/৮৮১, ইবন মাজাহ/৮৫৮)
  • নামাযে প্রত্যেককে ডান হাত বাম হাতের “ঘেরার" উপর রাখতে হবে। (যেরা শব্দের অর্থ হাতের কনুই থেকে মধ্যমা আঙ্গুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত দীর্ঘ হাত)
  • রাসূল (সাঃ) নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে তা নিজের বুকের উপরে রাখতেন। [মুসলিম/৭৮০, তিরমিযী/২৫২, আবূ দাউদ/৭৫৯]
  • একাকী বা জামা'আতের নামাযে ইমাম ও মুক্তাদিরা সাজদার জায়গায় দৃষ্টি রাখবে। [ইবন মাজাহ/১৬৩৪]
  • অতঃপর এই সানাটি পাঠ করতে হবে : “আল্লাহুম্মা বাঈদ বাইনী ওয়া বাইনা খাতায়িয়া ইয়া কামা বা আদতা বাইনাল মাশরিকি ওয়াল মাগরিবি। আল্লাহুম্মা নাক্কিনী মিনাল খাতায়িয়া কামা ইউনাক্কাছ ছাওবুল আবইয়াদু মিনাদ দানাসি, আল্লাহুম্মাগসিল খাতায়িয়া ইয়া বিল মায়ি ওয়াছ ছালজি ওয়াল বারাদি। [বুখারী/৭০৬, মুসলিম/১২৩০, নাসাঈ /৮৯৮, ইবন মাজাহ/৮০৫, আবূ দাউদ/৭৮১]
  • তাছাড়া কেহ কেহ এই সানাও পাঠ করেন : সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারা কাসমুকা ওয়া তা'আলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা। [তিরমিযী/২৪২] (হাদীসটি দুর্বল)
  • নামাযে সানা পাঠের পর নীরবে এই আউযুবিল্লাহ্ পাঠ করতে হয় “আউযুবিল্লাহিস সামীয়িল আলীমি মিনাশ শাইতানির রাজীম, মিন হামযিহী, ওয়া নাফখিহী, ওয়া নাফছিহী। [তিরমিযী/২৪২]
  • তাছাড়াও এই আউযুবিল্লাহ্ পাঠ করা যায়- “আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম। [সূরা নাহল-৯৮ -আলোকে]
  • তারপর নামাযে নীরবে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম" বলে সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পাঠ করতে হবে। [মুসলিম/৭৭৪, তিরমিযী/২৪৪]
  • উচ্চস্বরে বা নীরব নামাযের কিরাআতে প্রত্যেক রাক'আতে ইমাম, মুক্তাদী এবং একাকী সবার জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ করা জরুরী। কেননা রাসূল (সাঃ) বলেছেন : যে ব্যক্তি নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করেনা তার নামায হয়না। (বুখারী / ৭১৮, মুসলিম /৭৫৮, তিরমিযী /২৪৭] রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নামা আদায় করল অথচ নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করলনা সেই নামায অসম্পূর্ণ। এ কথা তিনি তিনবার বলেছেন। [মুসলিম/৭৬২, নাসাঈ/৯১২, আবু দাউদ/৮২১]
  • সূরা ফাতিহা পাঠ শেষে উচ্চস্বরে কিরাআত বিশিষ্ট নামাযে উচ্চস্বরে এবং নীরব কিরা'আত বিশিষ্ট নামাযে নীরবে আমীন বলতে হবে। [বুখারী/৭৪৩, আবূ দাউদ/৯৩৩, ইবন মাজাহ/৮৫৩)
  • সূরা ফাতিহার পর কুরআন থেকে যা সহজ সাধ্য তা পাঠ করতে হবে। [বুখারী / ৭৩৩, মুসলিম/৭৬৭, আবূ দাউদ/৮১৯ |
  • তারপর “আল্লাহু আকবার" বলে উভয় হাত কাঁধ বা কান পর্যন্ত উঠিয়ে রুকূতে যেতে হবে। [বুখারী/৭০০, মুসলিম/৭৪৫, আবূ দাউদ/৭২২]
  • রুকুর সময় হাতের তালু দ্বারা হাঁটু মযবৃতভাবে ধরতে হবে ও হাতের আঙ্গুলগুলি পরস্পর বিচ্ছিন্ন রাখতে হবে এবং এ সময় স্বীয় মাথা পিঠের সমান্তরালে রাখতে হবে। [আবূ দাউদ/৭৩০]রুকুতে তিনবার “সুবহানা রাব্বীইয়াল 'আযীম বলতে হয়। [তিরমিযী/২৬১, নাসাঈ /১০৪৯]
  • রুকুতে এই দু'আও পাঠ করা যায় : সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলী। [বুখারী /৭৫৫, মুসলিম / ৯৬৭, নাসাঈ / ১০৫০, ইবন মাজাহ /val (এ ছাড়া রুকুতে সহীহ হাদীসে বর্ণিত অন্যান্য দু'আও পাঠ করা যায়)
  • রুকূ থেকে মাথা উঠানোর সময় অনুরূপভাবে দুই হাত কাঁধ অথবা কান বরাবর উঠাতে হবে এবং "সামি' আল্লাহু লিমান হামিদা" বলতে হবে।[বুখারী/৬৯৭]
  • অতঃপর পুরাপুরি সোজা হয়ে দাড়িয়ে “রাব্বানা ওয়া লাকাল হাম্দ" অথবা “আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হাম্দ অথবা “রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদু হামদান কাছীরান তাইয়িবান মুবারাকান ফীহি বলতে হবে। [বুখারী/৭৫৭, মুসলিম/৭৯৭, তিরমিযী /২৬৭] ও সাজদায় যেতে মাটিতে হাঁটু রাখার পূর্বে দুই হাত রাখতে হবে। [বুখারী/অনুঃ ১৬৬, আৰু দাউদ/৮৪০, নাসাঈ /১০৯৪)
  • সাতটি অঙ্গ দ্বারা সাজদা করতে হবে। যথা : কপাল (নাক অবশ্যই মাটিতে স্পর্শ করা থাকবে), দুই হাত, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের আঙ্গুলসমূহ দ্বারা। (সাজদা অবস্থায় উল্লেখিত অঙ্গগুলির কোনটিই জমিন থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা জায়েয নয়। তবে অসুস্থতার কারণে অপারগ হলে সেটি ভিন্ন কথা) [বুখারী/৭৭২, মুসলিম/৯৭৮]
  • সাজদার অঙ্গসমূহ সঠিকভাবে ও যথাযথ স্থানে রাখতে হবে। যেমন দুই হাতের তালু মাটিতে রাখা, দুই বাহু প্রসারিত করে কনুই থেকে পাঁজর এবং পেট থেকে উরু পৃথক রাখতে হবে। (তবে পার্শ্বের মুসল্লির যেন কোন কষ্ট না হয়) (বুখারী/৭৬৭, মুসলিম / অনু-৪৪]
  • সাজদা অবস্থায় হাটুদ্বয় পৃথক থাকবে, পদদ্বয়ের পাতা ও পায়ের আঙ্গুলগুলির মাথা কিবলামুখী হবে এবং পায়ের গোড়ালীদ্বয়কে মিলিয়ে রাখতে হবে। [ইবন খুযাইমাহ, হাকিম)
  • কুকুরের ন্যায় দুই হাত মাটিতে বিছিয়ে দিয়ে সাজদা করা নিষেধ। [বুখারী/৫০৫, তিরমিযী /২৭৫] সাজদা করার সময় দুই হাত এমনভাবে রাখতে হবে যেন কোন বকরীর বাচ্চা বুকের নীচ দিয়ে চলে যেতে পারে। [মুসলিম / ৯৮৮, ইবন মাজাহ/৮৮০, তিরমিযী /২৭১)]
  • সাজদায় তিনবার “সুবহানা রাব্বীইয়াল “আলা বলতে হয়। [তিরমিযী/২৬১]
  • সাজদায় এই দু'আও পাঠ করা যায় : সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলী। [বুখারী/৭৫৫, মুসলিম/৯৬৭, নাসাঈ/১০৫০, ইব্‌ন মাজাহ/৮৮৯] (এ ছাড়া সহীহ হাদীসে বর্ণিত অন্যান্য দু'আও পাঠ করা যায়)
  • অতঃপর “আল্লাহু আকবার" বলে মাথা উঠাতে হবে এবং দুই সাজদার মাঝে ডান পায়ের পাতা খাড়া করে বাম পা বিছিয়ে উহার উপর বসতে হবে এবং এই দু'আ পড়তে হয় : আল্লাহুম্মাগফিরলী ওয়ার হামনী ওয়াজ বুরনী ওয়াহদিনী ওয়া ‘আফিনী ওয়ার যুকনী। [বুখারী/৭৭৯, তিরমিযী/২৮৪]  তাছাড়া দুই সাজদার মাঝে বসা অবস্থায় এই দু'আও পাঠ কার যায় : রাব্বিগ ফিরলী, রাব্বিগ ফিরলী। [ইবন মাজাহ/৮৯৭)
  • এই বৈঠকে বাম হাত বাম উরুর উপর এবং ডান হাত ডান উরুর উপর রাখতে হবে এবং হাতের আঙ্গুলি হাঁটুর নিকট থাকবে। [মুসলিম/১১৮৬, নাসাঈ /১২৬৬)] (অতঃপর ২য় সাজদা করতে হবে। এই সাজদা ১ম সাজদার অনুরূপ করতে হবে)
  • ২য় সাজদা থেকে (নামাযের বেজোড় রাক'আতে) উঠে সোজা হয়ে সামান্য সময়ের জন্য বসতে হবে (যেভাবে দুই সাজদার মাঝখানে বসতে হয়)। [বুখারী/৭৮২, আবৃ দাউদ/৮৪৩, নাসাঈ/১১৫৫]
  • অতঃপর ২য় রাক'আতের উদ্দেশে জমিনে (মাটিতে) দুই হাতে ভর দিয়ে “আল্লাহু আকবার বলে উঠে দাঁড়াতে হবে। [বুখারী/৭৮৩, নাসাঈ/১১৫৬] (১ম রাক'আতের অনুরূপ ২য় রাক'আত আদায় করতে হবে, তবে এখানে সানা পড়তে হয়না)
  • তিন অথবা চার রাক'আত বিশিষ্ট নামাযে ২য় রাক'আতের পর ১ম বৈঠকে বসে আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করতে হয়। এ সময় বাম পায়ের পাতার উপর বসে ডান পায়ের পাতা খাড়া করে রাখতে হয়। [বুখারী/৭৮৭, আবূ দাউদ/১৬৩] (চিত্র নং-১২)] ও আত্তাহিয়্যাতু পাঠের সময় বাম হাত বাম উরুর উপর এবং ডান হাত ডান উরুর উপর রাখতে হবে। আর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিকে মধ্যমার উপর রেখে তিপ্পান্ন (আরাবী অক্ষরের ন্যায়) বানিয়ে শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতে হবে এবং এ অবস্থায় শাহাদাত আঙ্গুলের দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। [মুসলিম/১১৮৪, ১১৮৬, তিরমিযী /২৯৪, ইবন মাজাহ/৯১১, নাসাঈ/ ১২৬৩, ১২৬৬)] কেহ (আত্তাহিয়্যাতু পাঠে "আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলার সময় কেহ কেহ শুধু শাহাদাত আঙ্গুল একবার উঁচু করে ইশারা করেন, যা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়)
  • আত্তাহিয়্যাত হল: আত্তাহিয়্যাত লিল্লাহি ওয়াস্সালাওয়াতু ওয়াত্তাইয়্যেবাতু, আসসালামু “আলাইকা আইয়্যুহান্নাবিইয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আসসালামু আলাইনা ওয়া 'আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন, আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান 'আবদুহু ওয়া রাসূলুহ। [বুখারী/৬৫৬, মুসলিম/৮৪৭, তিরমিযী /৫৮২, নাসাঈ/৮৩১, ইবন মাজাহ/১৬১]
  • অতঃপর ৩য় রাকাআতের উদ্দেশে “আল্লাহু আকবার বলে উভয় হাত জমিনে (মাটিতে) ভর দিয়ে উঠে দাঁড়াতে হবে এবং এই তাকবীরের সময় উভয় হাত কাঁধ বা কান বরাবর উঠাতে হবে। [বুখারী/৭০১, নাসাঈ/১১৮৫]
  • এরপর পূর্বে বর্ণিত নিয়মে বুকের উপর হাত রাখতে হবে, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীমসহ সূরা ফাতিহা পাঠ করতে হবে, রুকু ও সাজদা করতে হবে। যদি মাগরিবের নামায হয় তাহলে তৃতীয় রাক'আত ঐ নিয়মে শেষ করে “আত্তাহিয়্যাতু পাঠের জন্য শেষ বৈঠকে বসতে হবে। কিন্ত চার রাক'আত বিশিষ্ট নামায হলে “আল্লাহু আকবার" বলে সোজা হয়ে বাম পা বিছিয়ে সামান্য সময়ের জন্য বসতে হবে। অতঃপর উভয় হাত দ্বারা জমিনে ভর দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। [বুখারী/৭৮৩, নাসাঈ / ১১৫৬)]
  • ৪র্থ রাক'আত শেষ করে শেষ বৈঠকের জন্য বসার নিয়ম হল * ডান পায়ের পাতা খাড়া রেখে এবং আঙ্গুলগুলি কিবলামুখী রেখে, বাম পায়ের পাতা ডান পায়ের গোছার (পায়ের নিম্নাংশের মাংসল অংশ) নীচ দিয়ে বের করে মাটির সাথে বাস মিশিয়ে বসতে হবে। [বুখারী ৭৭, আবু দাউদ/ ৯৬৩] 
  • যে কোন রাক'আত বিশিষ্ট নামাযের শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পাঠের পর নিম্নের দুরূদে ইবরাহীম পড়তে হবে : আল্লাহুম্মা সাল্লি 'আলা মুহাম্মাদিও ওয়া 'আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা 'আলা ইবরাহীমা ওয়া 'আলা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিও ওয়া 'আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা 'আলা ইবরাহীমা ওয়া 'আলা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। [বুখারী/৫৯০৪, নাসাঈ/১২৯২]
  • অতঃপর নিম্নোক্ত দু'আ পাঠ করতে হয় : আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন ‘আযাবি জাহান্নামা ওয়া মিন আযাবিল কাররি। ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাতি, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল। [মুসলিম/ ১২০০]
  • এই দু'আও পাঠ করা যায় : আল্লাহুম্মা ইন্নী যালামতু নাফসী যুলমান কাছীরাও ওয়ালা ইয়াগ ফিরুয্ যুনুবা ইল্লা আন্তা ফাগফিরলী মাগফিরাতাম মিন ‘ইনদিকা ওয়ার হামনী ইন্নাকা আন্তাল গাফুরুর রাহীম। [বুখারী/৭৯২, নাসাঈ/১৩০৫] (সহীহ হাদীসে বর্ণিত অন্যান্য দু'আও পাঠ করা যায়)
  • এরপর ডান ও বাম দিকে “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ” বলে সালাম ফিরাতে হবে। [মুসলিম/৮৫৩]
  • আবদুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) বলেছেন ঃ রাসূলের (সাঃ) নামাযের সমাপ্তি তাকবীর (আল্লাহু আকবার) দ্বারা বুঝতে পারতাম। [বুখারী/৭৯৯, মুসলিম/১১৯২] ফরয নামাযে সালাম ফিরানোর পর নিম্নোক্ত দু'আ পাঠ করতে হয় ঃ “আস্তাগফিরুল্লাহ তিনবার। এরপর একবার বলতে হয় ঃ "আল্লাহুম্মা আন্তাস সালামু ওয়া মিনকাস সালামু তাবারাকতা ইয়া যাল জালালী ওয়া ইকরাম। [মুসলিম/১২১০, ইবন মাজাহ/৯২৮, তিরমিযী ৩০০, নাগাই/১৩৪০ )]
  • প্রত্যেক ফরয নামাযের পর তেত্রিশবার করে "সুবহানাল্লাহ", “আলহামদুলিল্লাহ" ও চৌত্রিশবার “আল্লাহু আকবার" বলতে হয়। [মুসলিম/১২২৫, নাসাঈ/১৩৫২)
  • অথবা
  • তেত্রিশবার করে "সুবহানাল্লাহ", "আলহামদুলিল্লাহ “আল্লাহু আকবার এবং এরপর একবার “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া 'আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর বলতে হয়। (মুসলিম/১২২৮) অথবা দশবার করে “সুবহানাল্লাহ, “আলহামদুলিল্লাহ “আল্লাহু আকবার বলতে হয়। [বুখারী/৫৭৭৭] (এ ছাড়া সহীহ হাদীসে বর্ণিত অন্যান্য দু'আ ও যিকর করা যায়)।
  • রাসূল (সাঃ) ডান হাতের আঙ্গুলের গিরা দ্বারা তাসবীহ গণনার জন্য বলেছেন। কংকর (তাসবীহর দানা কিংবা গুটি সূতায় গেথে অথবা কাউন্টিং মেশিন) দ্বারা তাসবীহ পাঠের হিসাব রাখতে নিরুৎসাহীত করেছেন। [আবূ দাউদ/১৫০০-১৫০]