বিভিন্ন নামায ও তার ফযিলত

বিভিন্ন নামায ও তার ফযিলত
বিভিন্ন নামায ও তার ফযিলত 
কাযা নামায পড়ার নিয়ম

কোন কারণে নামায ছুটে গেলে অন্য সময় তা আদায় করাকে কাযা বলে। এক ওয়াক্ত হতে পাঁচ ওয়াক্ত পর্যন্ত নামায ছুটে গেলে তা উপস্থিত নামাযের পূর্বে আদায় করতে হয়। যদি কাযা নামায আদায় করতে গিয়ে উপস্থিত নামায কাযা হবার আংশকা থাকে, তাহলে উপস্থিত ওয়াক্তের নামায প্রথমে আদায় করে নিবে, পরে কাযা আদায় করবে। কাযা শুধু ফরয ও ওয়াজিব নামাযের পড়তে হয়। সুন্নাতের কাযা পড়তে হয় না।

ফজরের নামায কাযা হয়ে গেলে ঐ দিনের দ্বি প্রহরের পূর্ব পর্যন্ত পড়া যায় এবং সুন্নাতসহ পড়তে হবে। তার পরে পড়লে শুধু ফরয ২ রাকাআত পড়বে। জানাযা, ঈদ ও জুমআর নামাযের কাযা হয় না। জুম্মার নামাযের পরিবর্তে যোহরের নামায পড়তে হবে।

মুসাফির কাকে বলে?

যদি কোন ব্যক্তি ঘর হতে বের হয়ে ৪৮ মাইলের অধিক দূরত্বে চলে যায় অথাব (১০৬ কিঃ মিঃ) পায়ে হেঁটে তিন দিন তিন রাতের দূরত্বে চলে গেলে ইসলামের পরিভাষায় তাকে মুসাফির বলা হয়। উল্লেখ্য ৪৮ মাইলের কম রাস্তা অতিক্রম হলে তাকে আর মুসাফির বলা হবে না।

মুসাফিরের নামাযের নিয়ম

যদি কারো মুসাফির অবস্থায় অবস্থানের সময় সীমা ১৫ দিনের কম হয় তখন সে কছর নামায পড়বে আর যদি তার অবস্থান ১৫ দিনের উর্ধ্বে হয়, তাহলে সে মুসাফির নয়, তাকে পুরা নামায পড়তে হবে। উল্লেখ্য যে ভ্রমণকারীর সিদ্ধান্তের উপর সময় সীমার ভিত্তিতে মুকীম এবং মুসাফির হওয়া নির্ভর করে । মুসাফির অবস্থায় প্রত্যেক চার রাকাআত বিশিষ্ট ফরয নামাযে দু রাক'আত পড়তে হয় এবং তিন ও দু রাকাআত ফরজ নামায পুরা পড়তে হয়। উল্লেখ্য, কোন সুন্নাতে মুআক্কাদাহ সময় থাকলে বা কোন অসুবিধা না থাকলে ছেড়ে দেয়া যায় না। সুন্নাত নামায পুরা পড়তে হবে। মুসাফির যদি মুকীম ইমামের পিছনে নামায পড়ে, তবে পুরা পড়বে।

এশরাক নামাযের বিবরণ নিয়্যত

এশরাক নামায সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছঃ) ফরমায়েছেন : হাদীস : যে ব্যক্তি ফজরের নামায আদায় করতঃ সূর্য উদয় পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলার যিকিরে মশগুল থেকে সূর্যোদয়ের পরে দু' রাক'আত নামায আদায় করিবে, সে ব্যক্তি একটি হজ্জ ও একটি উমরার ছাওয়াব লাভ করবে।

উচ্চারণ ঃ নাওয়াইতু আন্ উছোয়াল্লিয়া লিল্লা-হি তা'আলা- রাক্‘আতায় ছলা-তিল ইশরাব্বি সুন্নাতু রাসূলিল্লা-হি তা'আ-লা- মুতাওয়াজ্জিহান ইলা- জিহাতিল কা'বাতিশ শারীফাতি আল্লা-হু আকবার ।

চাশত নামাযের বিবরণ ও নিয়্যত

চাশত নামায সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছঃ) ফরমায়েছেন : হাদীসে কুদসী : আল্লাহ তাআ'লা এরশাদ করেছেন : হে আদম সন্তান! যদি তোমরা দিনের প্রথম ভাগে চার রাক'আত নামায আদায় কর, তবে আমি সমস্ত দিনের জন্য তোমাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করে থাকি।

-(আহমদ) এ নামায দু', চার, আট বা ১২ রাক'আত পর্যন্ত আদায় করা যায়। এ নামাযের প্রতি রাক'আতে সূরা ফাতিহার পর একবার আয়াতুল কুরসী এবং তিনবার সূরা ইখলাছ পড়া যায়। অথবা শুধু সূরা এখলাছ (কুলহু আল্লাহু) দ্বারাও আদায় করা যায় কিংবা যে কোন সূরা মিলিয়ে আদায় করা যায় । এ নামাযের ওয়াক্ত এক প্রহর হতে আরম্ভ হয়ে বেলা দ্বিপ্রহরের পূর্ব পর্যন্ত থাকে । এ নামাযকে “ দ্বোহা” নামাযও বলা হয়।

উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন্ উছোয়াল্লিয়া লিল্লা-হি তা'আ-লা- রাক'আতাই ছলা-তিদ্ দ্বোহা - সুন্নাতু রাসূলিল্লা-হি তা'আ-লা- মুতাওয়াজ্জিহান
ইলা- জিহাতিল, কা'বাতিশ শারীফাতি আল্লা-হু আকবার । বাংলায় নিয়্যত : আমি কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে দু' রাক'আত চাশতের নামায আদায়ের নিয়্যত করলাম- আল্লা-হু আকবার ।

আউয়াবীন নামাযের বিবরণ ও নিয়্যত

আউয়াবিনের নামাযের ফযলীত সম্পর্কে হযরত রাসূলুল্লাহ (ছঃ) বলেছেনঃ

যে ব্যক্তি মাগরিব নামাযের পর ৬ রাক'আত (নফল) নামায আদায় করে এবং নামাযের মধ্যে কথাবার্তা না বলে থাকে, সে ব্যক্তি ১২ বছর এবাদত করার সমান ছাওয়াব লাভ করবে। (ইবনে মাজা)

নিয়্যত ঃ উচ্চারণ ঃ নাওয়াইতু আন্ উছোয়াল্লিয়া লিল্লা-হি তা'আ-লা- রাক'আতাই ছলা-তিল্‌ আউয়্যাবীনি সুন্নাতু রাসূলিল্লা-হি তা'আ-লা- মুতাওয়াজ্জিহান ইলা- জিহাতিল কা'বাতাশি শারিফাতি আল্লা-হু আকবার ।

বাংলায় নিয়্যত ঃ আমি কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে দু' রাক'আত আউয়াবীন নামায আদায়ের নিয়্যত করলাম- আল্লা-হু আকবার ।

সলাতুত্ তাসবীহ এর বিবরণ ও নিয়্যত

রাসূলুল্লাহ (ছঃ) স্বীয় চাচা আব্বাস (রাঃ)-কে ফরমায়েছেন : হে চাচাজান ! আমি কি আপনাকে এমন নামাযের কথা বলব না, যে নামায আদায় করলে সমস্ত গুনাহ্ মাফ হয়ে যায়। চাচাজান আপনি এ নামায এ নিয়মে চার রাক'আত আদায় করবেন। তার প্রথম রাক'আতে সানা “সুবহানাকা” পাঠ করার পর নিম্নের দোয়াটি ১৫ বার তারপর সূরা ফাতেহার সাথে অন্য যে কোন সূরা মিলিয়ে পড়ার পর ১০ বার, রুকুর তাসবীর পরে ১০ বার, রুকূ হতে দাঁড়িয়ে ১০ বার, প্রথম সিজদার তাসবীহর পরে ১০ বার, দু' সেজদার মাঝে বসা অবস্থায় ১০ বার এবং দ্বিতীয় সেজদার তাসবীহ শেষ করে ১০ বার এভাবে এক রাক'আতে মোট ৭৫ বার হল। এরূপে চার রাক'আতে মোট ৩০০ বার তাসবীহ পাঠ করতে হবে। হে চাচাজান ! সম্ভব হলে এ নামায প্রত্যহ একবার আদায় করবেন, এটা সম্ভব না হলে সপ্তাহে শুক্রবার দিনে একবার, এটা সম্ভব না হলে প্রতি মাসে একবার, এটা সম্ভব না হলে বছরে একবার, এটাও সম্ভব না হলে জীবনে একবার আদায় করবেন। -(বায়হাকী, ইবনে মাযা ও আবু দাউদ)

দোয়াটি এই ঃ

উচ্চারণ : সুব্‌হানাল্লা-হি ওয়ালহামদু লিল্লা-হি ওয়া লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লা-হু আকবার। 

নিয়্যত ঃ উচ্চারণ ঃ নাওয়াইতু আন্ উছোয়াল্লিয়া লিল্লা-হি তা'আ-লা- আরবা'আ রাক্'আতি ছলা-তিত্‌ তাবীহি সুন্নাতু রাসূলিল্লা-হি তা'আ-লা- মুতাওয়াজ্জিহান ইলা- জিহাতিল কা'বাতিশ শারীফাতি আল্লা-হু আকবার । বাংলায় নিয়্যত : আমি ক্বেলামুখী হয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে চার রাক'আত
তাসবীহের নামায আদায়ের নিয়্যত করলাম- আল্লা-হু আকবার।

তওবার নামাযের বিবরণ ও নিয়্যত

কোন মু'মিন ব্যক্তি যদি ঘটনাচক্রে কোন গুনাহের কাজ বা কথাবার্তা বলে থাকে কিংবা করে বসে যা কবীরা গুনাহের মধ্যে শামিল হয়ে যায়, তখন দেরী না করে ওযূ করতঃ দু' রাক'আত নফল নামায আদায় করবে। অতঃপর তওবা করতঃ কান্নাকাটি করে আল্লাহর দরবারে গুনাহ্ মাফীর জন্য দোয়া প্রার্থনা করবে। আর অন্তরে এভাবে শপথ গ্রহণ করবে যে, জীবনে এরূপ কাজ করব না বা বলব না। এভাবে দোয়া করলে আল্লাহ গাফুরুর রাহীম বান্দার গুনাহখাতা মাফ করে দেবেন, যেহেতু তিনি তওবা কবূলকারী ও ক্ষমাকারী।

এ সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (ছঃ) বলেন : হাদীস ঃ কখনো কোন বান্দা যদি গুনাহের কার্য করে ফেলে, তবে সে সঙ্গে সঙ্গে ওযূ করতঃ দু' রাক'আত নফল নামায আদায় করবে এবং তওবা করবে, হয়তঃ আল্লাহ তা'আলা গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।

- (তিরমিযী ও ইবনে হাব্বান )

নিয়্যত ঃ উচ্চারণ ঃ নাওয়াইতু আন্ উছোয়াল্লিয়া লিল্লা-হি তা'আ-লা- রাক্’আতাই ছলা-তিতাওবাতি সুন্নাতু রাসূলিল্লা-হি তা'আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা-জিহাতিল কা'বাতিশ শারীফাতি আল্লা-হু আকবার।

বাংলায় নিয়্যত ঃ আমি কেবলা মুখী হয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে দু' রাক্আত তওবার নামায আদায় করার নিয়্যত করলাম- আল্লা-হু আকবার ।

ছলাতুল হাযাতের বিবরণ ও নিয়্যত

যদি কোন বান্দার জরুরী কোন হাযত দেখা দেয়, তখন তা পূর্ণ হওয়ার উদ্দেশ্যে খালেছ দিলে দু' রাক'আত নফল নামায আদায় করবে। নামায শেষে নিম্নের দোয়াটি পাঠ করতঃ কয়েকবার দুরূদ শরীফ পড়ে এস্তেগফার করে আল্লাহ তা'আলার দরবারে দু' হাত তুলে কান্নাকাটি সহকারে স্বীয় হাযত পূর্ণ হওয়ার জন্য দোয়া করবে। দোয়াটি হল : 
উচ্চারণ ঃ সুবহা-নাকা আল্লা-হুম্মা ওয়া বিহামাদিকা ওয়া তাবা-রকাসমুকা ওয়া তা'আলা জাদ্দুকা ওয়া লা-ইলা-হা গাইরুক।

নিয়্যত ঃ উচ্চারণ ঃ নাওয়াইতু আন উছোয়াল্লিয়া লিল্লা-হি তা'আ-লা- রাক'আতাই ছলা-তিল হাযা-তি সুন্নাতু রাসূলিল্লা-হি তা'আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা-জিহাতিল কা'বাতিশ শারীফাতি আল্লা-হু আকবার।

বাংলা নিয়ত ঃ অমি ক্বেবলামুখী হয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে দু' রাক'আত ছলাতিল হাযত আদায় করার নিয়্যত করলাম- আল্লা-হু আকবার।