মু'মিনের পরিচয় কি?

মু'মিনের পরিচয়

কোরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন। 

  • নিশ্চই আত্মসমর্পণকারী পুরুষ, আত্মসমর্পণকারী নারী।
  • আল্লাহ, রাসূল, ফেরেশতা, আসমানী কিতাব, আখেরাত ও তাকদীরে পূর্ণ আস্থাবান মানুষেরা।
  • সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী। 
  • আল্লাহর অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী।
  • ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নরী। 
  • দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী।
  • বিনয়াবনত পুরুষ ও বিনয়াবনত নারী।
  • রোযা পালনকারী পুরুষ ও রোজা পালনকারী নারী।
  • লজ্জাস্থান হেফাজতকারী পুরুষ ও লজ্জাস্থান হেফাজতকারী নারী। 
  • আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও নারী, এদের জন্য আল্লাহ রেখেছেন ক্ষমা ও মহা প্রতিদান। (সূরা আহযাব-৩৫)


কামিয়াবীর পথ

এই দশটি কথা, এই দশটি গুণ যদি মুসলমান নারী নিজের মধ্যে তৈরি করতে পারে, তাহলে সে কামিয়াব। আর যদি এ দশটি গুণ মুসলমান পুরুষ অর্জন করতে পারে সেও কামিয়াব। আল্লাহ তা'আলার দরবারে তারা সফলকাম হিসেবে গণ্য হবে।


মুমিন সম্পর্কে কোরানের উল্লেখযোগ্য আয়াতগুলো হলো:

মনমরা হয়ো না, দুঃখ করো না, তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো। -(সূরা-আলে ইমরানঃ ১৩৯)

হে ঈমান গ্রহণকারীগণ, তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো তাহলে আল্লাহও তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা সুদৃঢ় করে দেবেন। (সূরা -মুহাম্মদঃ ৭)

যারা ঈমান আনে আল্লাহ তাদের সাহায্যকারী ও সহায়। তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর মধ্যে নিয়ে আসেন। আর যারা কুফরীর পথ অবলম্বন করে তাদের সাহায্যকারী ও সহায় হচ্ছে তাগুত। সে তাদের আলোক থেকে অন্ধকারের মধ্যে টেনে নিয়ে যায়। এরা আগুনের অধিবাসী। সেখানে থাকবে এরা চিরকালের জন্য। -(সূরা আল-বাকারাহঃ ২৫৭)

পুরুষ বা নারী যে-ই সৎকাজ করবে, সে যদি মু’মিন হয়, তাহলে তাকে আমি দুনিয়ায় পবিত্র-পরিচ্ছন্ন জীবন দান করবো এবং (আখেরাতে) তাদের প্রতিদান দেবো তাদের সর্বোত্তম কাজ অনুসারে।-(সূরা আন্ন নহলঃ ৯৭)

আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তোমাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান আনবে ও সৎকাজ করবে তাদেরকে তিনি পৃথিবীতে ঠিক তেমনিভাবে খিলাফত দান করবেন যেমন তাদের পূর্বে অতিক্রান্ত লোকদেরকে দান করেছিলেন, তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে মজবুত ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করে দেবেন, যাকে আল্লাহ তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের (বর্তমান) ভয়-ভীতির অবস্থাকে নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দেবেন। তারা শুধু আমার বন্দেগী করুক এবং আমার সাথে কাউকে যেন শরীক না করে। আর যারা এরপর কুফরী করবে তারাই ফাসেক। (সূরা আন্ নূরঃ ৫৫)

নিঃসন্দেহে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে শীঘ্রই রহমান তাদের জন্য অন্তরে ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেবেন। (সূরা মারয়ামঃ ৯৬)

ঈমানদারদেরকে আল্লাহ একটি শাশ্বত বাণীর ভিত্তিতে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় স্থানে প্রতিষ্ঠা দান করেন। আর জালেমদেরকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেন। আল্লাহ যা চান তাই করেন।-(সূরা ইবরাহীমঃ ২৭)

তবে যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে তাদের জন্য রয়েছে নিয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাত, যেখানে তারা থাকবে চিরকাল। এ হচ্ছে আল্লাহর অকাট্য প্রতিশ্রুতি এবং তিনি পরাক্রমশালী ও জ্ঞানময়।-(সূরা-লোকমানঃ৮-9)

লোকেরা বললোঃ তোমাদের বিরুদ্ধে বিরাট সেনা সমাবেশ ঘটেছে। তাদেরকে ভয় করো, তা শুনে তাদের ঈমান আরো বেড়ে গেছে এবং তারা জবাবে বলেছেঃ আমাদের জন্য আল্লাহ যথেষ্ট এবং তিনি সবচেয়ে ভালো কার্য উদ্ধারকারী। -(আলে ইমরানঃ ১৭৩)

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে প্রকৃত মুমিন হওয়ার তৌফিক দান করুক। আমীন।