রোযা কি? কখন? কিভাবে সম্পন্ন করতে হয়?

রমযানের চাঁদ যে সন্ধ্যায় দেখা যায়, তাহার পরের দিন হইতে পরবর্তী শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়া পর্যন্ত পুরা একমাস রোযা রাখা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মুসলমানের উপর ফরয। সোবহে সাদেক হইতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি হইতে বিরত থাকাকে রোযা বলে। রোযার নিয়ত করাও একটি ফরয। দ্বিপ্রহরের পূর্বে নিয়ত না করিলে রোযা হইবে না।


রোযা কেন? কিভাবে? কখন করতে হয়?

রোযা কেন? কিভাবে? কখন করতে হয়?


রোযার নিয়ত

আরবি উচ্চারণঃ নাওয়াইতু আন আসূমা গাদাম মিন শাহরি রামাযানাল মোবারাকি, ফারযাল লাকা ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নী ইন্নাকা আনতাস সামীউল আলীম


  • ফরয- রমযান মাসের রোযা ফরয এবং উহার কাযাও ফরয।
  • ওয়াজিব- মানতী রোযা এবং যে নফল রোযা শুরু করিয়া ভাঙ্গিয়া ফেলা হইয়াছে তাহার কাযা আদায় করা ওয়াজিব।
  • সুন্নত- মহররম মাসের প্রথম দশ দিনের রোযা।
  • মোস্তাহাব প্রত্যেক চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোযা রাখা। এই রোযাকে আইয়ামে বীফ-এর রোযা বলা হয়।
  • শাওয়াল মাসে ছয় দিন রোযা রাখাও মোস্তাহাব।


ইফতার

সারা দিন পানাহার হইতে বিরত থাকিয়া সূর্যাস্তের পর আতিবিলম্বে ইফতার করিবে। বিনা দরকারে বিলম্বে ইফতার করা ইহুদীদের রীতি। সুতরাং অহেতুক বিলম্ব করিবে না। আর ইফতারের জন্য কোন উপাদেয় খাদ্য সামগ্রীরও দরকার নাই। ইফতারের নিয়তে সামান্য কতটুকু পানি খাইয়া লইলেও চলিবে ৷


ইফতারের নিয়ত

আরবি উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা সুমতু লাকা ওয়া তাওয়াক্কালুত আলা রিযকিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন । 


রোযা কত প্রকার ও কি কি?

নফল- উল্লিখিত দিনসমূহের রোযা ব্যতীত বৎসরের অন্যান্য দিনে রোযা রাখা নফল । 

হারাম যিলহজ্জ চাঁদের ১১, ১২, ১৩ এবং দুই ঈদের দিন রোযা রাখা হারাম।

মাকরূহ তানযিহী- মহররম মাসে কেবল ১০ তারিখে রোযা রাখা, শুধু শুক্রবারে বা যেকোন মাত্র একদিন রোযা রাখা।


যেসব কারণে রোযা ভঙ্গ হয়

১। রোযা রাখিয়া ইচ্ছাপূর্বক কোন জিনিস পানাহার করিলে । ২। কোন প্রকারে ইন্দ্রিয় তৃপ্তি উপভোগ করিলে।

৩। সিঙ্গা দেওয়ার দরুন বা ভুলে কিছু পানাহারের পর রোযা ভঙ্গ হইয়াছে ভাবিয়া ইচ্ছাপূর্বক আহার করিলে ।


রোযার কাফ্ফারা

(১) একজন ক্রীতদাসকে দাসত্ব বন্ধন মুক্ত করা। অথবা

(২) অনবরত ৬০ দিন রোযা রাখা বা ৬০ জন দরিদ্র ব্যক্তিকে দুই বেলা তৃপ্তির সহিত আহার করান বা উহার মূল্য দান করা। 


যে সকল কারণে রোযা মাকরূহ হয়।

১। পরের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করিলে। 

২। মিথ্যা কথা বলিলে অশ্লীল কথাবার্তা বলিলে। 

৩। ইফতার না করিলে ।

৪ । দাঁত হইতে বাহির হওয়া বুটের চাইতে ছোট জিনিস চিবাইয়া খাইলে। 

৫। গরমবোধে বার বার কুলি করিলে বা গায়ে ঠাণ্ডা কাপড় জড়াইলে অথবা গরগরা করিলে ।