ইসমে আজম এর রহস্য কি?

ইসমে আযম

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

পরম দাতা ও দয়ালু আল্লাহর নামে নাম দু প্রকার- 

  • আসল নাম ও ডাকনাম অর্থাৎ জাত নাম ও সিফাতী নাম।
  • (গুণবাচক নাম)। রাবিরা বলেন, আল্লাহ তা'আলার চার হাজার নাম আছে। তন্মধ্যে তিনশ' নাম যরে, তিনশত নাম তওরাতে, তিনশ' নাম ইঞ্জিলে ও একশ' নাম পাক কোরআনে উল্লেখ আছে। আল্লাহ তা'আলার বাকী তিন হাজার নাম কি কি এবং তা গোপন না প্রকাশ্য, একমাত্র তিনিই তা জানেন ।

যাক, কোরআন মজীদে আল্লাহ তা'আলার যে একশ' নাম আছে, তার মধ্যে একটি নাম পরশমণির ন্যায় মানুষের ধ্যানের ধন হয়ে আছে। অর্থাৎ 'ইসমে আযম' কোনটি তা তলিয়ে দেখছি না। আফসোস! আমরা যাঁর বান্দা- যিনি আমাদের প্রভু, তাঁর নাম না জানার মত বোকামি বা দুর্ভাগ্য কি হতে পারে ? 

তবে আল্লাহর আসল নাম কোনটি, এ সম্বন্ধে আমরা কতকগুলো যুক্তি-প্রমাণ উপস্থিত করব। পাঠকরা ভেবে দেখবেন, তা ঠিক না বেঠিক।

(১) হানাফী মাজহাবের ইমাম হযরত আবু হানীফা (র) বলেছেন- "I" এ নামটি 'ইসমে আযম'।

(২) জগতে প্রায় চার হাজার ভাষা প্রচলিত আছে। তন্মধ্যে যে যে ভাষার আভিধানিক উন্নতি যত বেশি হয়েছে, সে ভাষার শাব্দিক এবং ব্যুৎপত্তিগত অর্থের উন্নতিও তত বেশি হয়েছে। এরূপ উন্নত ভাষার মধ্যে আর আরবি ভাষায় প্রায় সব শব্দেরই ধাতুগত বা বুৎপত্তিগত অর্থ দেয়া আছে। কিন্তু শব্দের বুৎপত্তিগত কোন অর্থ লোগাতে (অভিধানে) দেয়া নেই। এতে দেখা যায়, III এ নামটি আভিধানিক জ্ঞানে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে একক একটি শব্দ; যেমন- 'আল্লাহ'কে আমরা একক, অদ্বিতীয় বা অতুলন প্রভু বলে মানি।

(৩) অভিধানে প্রতিটি শব্দের অবিকল ভাবপ্রকাশকে প্রতিশব্দ একাধিক দেয়া থাকে। কিন্তু 'আল্লাহ' শব্দের অবিকল ভাবপ্রকাশক প্রতিশব্দ একটিও নেই। যদি বলা হয় যে, কেন? 'আল্লাহ' শব্দের অর্থ খালেক বা সৃষ্টিকর্তা। তবে মুযিল্লু (হালাক্কারী), মুআখিরু (পশ্চাৎ নিক্ষেপকারী), কাহ্হারু (শাস্তি প্রদাতা) কে, বলুন তো? এতেও দেখা যাচ্ছে, 'আল্লাহ' শব্দের অর্থ 'আল্লাহ' বলা ছাড়া তর্কযুক্ত হওয়ার কারণ নেই ।


ইসমে.আযম.ও.আসমাউল.হুসনা
ইসমে.আযম.ও.আসমাউল.হুসনা


(৪) কোন বৈয়াকরণিক বলতে পারবে না ll শব্দটি পুংলিঙ্গ, না স্ত্রীলিঙ্গ, না ক্লীবলিঙ্গ। বলতে পারবে না এ শব্দটি কি একবচন, না বহুবচন। এখানেও শব্দটি একক এবং লিঙ্গভেদ ও বচনদোষ হতে মুক্ত। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, আল্লাহ শরীক-ভাগী হতেও মুক্ত, লিঙ্গভেদ হতেও মুক্ত।

(৫) রাহীম, রাহমান, খালেক, মালেক, ওয়াদুদ, ওয়াহহাব প্রভৃতি প্রভুর - সিফাতী বা গুণবাচক নাম বলে আমরা জানি। এসব নামে মানুষেরও নাম রাখা হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন মানুষ, দেও-দানব, ভূত-পেত্নী বা কারও উপাস্য দেব-দেবীর নাম 'আল্লাহ' রাখা হয়েছে বলে শোনা যায়নি। বরং প্রত্যেকটি বিজাতি 'আল্লাহ' নামটি সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে বা একক হয়ে আছে; যেমন- আমাদের প্রভু 'আল্লাহ' স্বীয় মাহাত্ম্যই একক বলে আমরা ঈমান এনেছি।

(৬) আমাদের প্রভুর 'আল্লাহ' নামটি এবং সিফাতী নামগুলো ভেঙ্গে ভেঙ্গে অর্থ করতে গেলে, অর্থ একইরূপ হয় না; যেমন- all এ নামের মধ্যে- 'আলিফ, লাম, লাম, হা' এ চারটি হরফ আছে। এর প্রথম হরফ 'আলিফ্‌’ অর্থ- 'আল্লাহু', আলিফ বাদ দিলে থাকে- লাম, লাম, হা অর্থাৎ শব্দটা হয় লিল্লা-হু। 'লিল্লা-হু' অর্থও আল্লাহ। লিল্লা-হু থেকে লাম, লাম, বাদ দিলে থাকে 'হু', হু অর্থও 'আল্লাহু'। কিন্তু প্রভুর অন্য কোন নামে এমন অর্থ হয় না। যেমন ধরুন, প্রভুর সিফাতী নাম 'রাহমান' অর্থ দয়ালু বা করুণাময়। 'রা, হা, মীম, নুন, মিলে হয় রাহমান। এর প্রথম অক্ষর 'রা' অর্থে আল্লাহকে বুঝায় না। 'রা' বাদ দিলে থাকে হা, মীম, নুন। শব্দটা হয় হামান। কারও নাম হয়ে যায়; যেমন- ফিরাউনের মন্ত্রীর নাম ছিল 'হামান'।

'রাহীম' প্রভুর আর একটি গুণবাচক নাম। 'রা, হা, ইয়া, মীম্‌, মিলে হয় রাহীম। এর প্রথম অক্ষর 'রা' বাদ দিলে থাকে- হা, ইয়া, মীম, অর্থাৎ শব্দটা হয় 'হীম্'। 'হীম্ বলতে প্রভুর কোন্ নাম নেই। 'হীম' একটি দোযখের নাম।

(৭) জীবনভর মানুষ প্রভুকে আল্লাহ্, খোদা, মা'বুদ, রাহমান, রাহীম, গফুর গাফ্ফার প্রভৃতি যে নামেই ডাকুক না কেন, কারও মৃত্যুকাল উপস্থিত হলে, তার কানে কানে বলে- 'আল্লা-হু বল আল্লা-হু বল'। কেউ এমন বলে না খোদা বল, মা'বুদ বল, গাফ্ফার বল। এমন কি, শোনা যায়- হিন্দুরাও না কি দেবতার নাম ছেড়ে মৃত্যুপথ যাত্রীকে 'আল্লাহ' নামের অজিা জপায়। নইলে নাকি ওদের আত্মা বের হয় না। এতে দেখা যাচ্ছে, নিদান বেলায়ও 'আল্লাহ' নামটিকেই মূল ধরা যায় ।

(৮) হাদীস শরীফে আছে, কবরে মুনকার ও নাকীর ফেরেশতা এসে মুর্দাকে জীবিত করে প্রশ্ন করেন- তোমার উপাস্য ছিল কে? ধর্ম ছিল কি? সে ব্যক্তি উপাস্যের নাম বলতে 'আল্লাহ' ব্যতীত অন্য কোন দেব-দেবী বা মানুষ প্রভুর নাম বরলে তার আযাবের অন্ত থাকে না। দেখা যাচ্ছে, কবরে গিয়েও রাহীম বা রাহমান বললে চলে না। 'খোদা' বললেও চলে না- 'আল্লাহকে’ উপাস্য বলা ব্যতীত।

(৯) 'ঈমান' ইসলাম ধর্মের মূল। ঈমানের মূল হচ্ছে কলেমাসমূহ। প্রত্যেকটি কালেমায় বলা হয়েছে 292 অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত অন্য

কোন ইলাহ্ বা উপাস্য নেই। কোন কলেমাতেই এমন বলা হয়নি যে, খোদা ব্যতীত উপাস্য নেই, রাহমান ব্যতীত উপাস্য নেই, কারীম ব্যতীত উপাস্য নেই। এতে দেখা যাচ্ছে, ঈমান আনার বেলায়ও 'আল্লাহ' নামের উপরই ঈমান আনতে হয় । আল্লাহর সিফাতী নামেও চলে না ।

(১০) আল্লাহর খাকালাম কোরআন মজীদের কথা ধরা যাক এবার। দেখা যায়, কোরআন মজীদের যেখানেই আল্লাহ স্বীয় তাওহীদ (একত্ববাণী) ঘোষণা করেছেন, সেখানেই 'আল্লাহ' শব্দ যোগ করেছেন। 'দয়া' প্রকাশের ক্ষেত্রে বলেছেন- রাহমান (দয়ালু), 'দান' প্রকাশের ক্ষেত্রে বলেছেন- রাহীম (দাতা), আযাব প্রকাশের বেলায় বলেছেন- কাহহারু (শাস্তিদানে সক্ষম), শান্তি প্রকাশের ক্ষেত্রে বলেছেন বাররু (শান্তি-দাতা) ইত্যাদি। তাহলে বলতে হয়, কোরআনেও প্রভু অদ্বিতীয় অতুলনরূপে নিজকে ঘোষণা করেছেন।

তাই, আমরা পড়তে পারি...

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আস আলুকা বিআন্নী আশহাদু আন্নাকা আনতাল্লাহু লা-ইলাহা ইল্লা আনতাল আহা’দুস সমাদুল্লাজী লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ ওয়ালাম ইয়া কুল্লাহু কুফুওয়ান আহা'দ।

অর্থাৎ, হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি। নিশ্চয় আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনিই আল্লাহ। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যিনি একক, অমুখাপেক্ষী যিনি কাউকে জন্ম দেন নি, তার থেকে কেউ জন্ম নেন নি এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। [তিরমিজি ৩৪৭৫]

ফজীলত: ইসমে আজম পড়ে আপনি দোয়া করলে সে দোয়া কবুল হয়। বিভিন্ন হাদিসে এসেছে অগণিতভাবে ইসমে আজম অনেক পাওয়ারফুল। অর্থাৎ, আল্লাহর কাছে অনেক বেশি পছন্দনীয়। তাই বান্দারা ইসমে আজম পড়ে আল্লাহর কাছে চাইলে আল্লাহ খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না।

বুলেট মিস হতে পারে...

এই দোয়া পড়ে আল্লাহর কাছে কোন কিছু চাইলে মিস হবে না...

“হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি এবং জানি যে, তুমিই আল্লাহ। তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোন মা'বূদ নেই। তুমি এক ও অনন্য। তুমি অমুখাপেক্ষী ও স্বনির্ভর। যিনি কাউকে জন্মও দেননি। কারো থেকে জন্মও নন। যার কোন সমকক্ষ নেই।'