কোরআন আরবিতে নাযিল হয়েছে। আর আমরা হলাম বাংলা ভাষার লোক। অর্থাৎ আমরা কোরআনকে আরবিতে সবাই বুঝতে পারি না গুটি কয়েকজন লোক বুঝতে পারে। আল্লাহ সুবহানাল্লাহতালাহ বলেছেন, কোরআন বুঝার মাধ্যমে আমরা আমাদের জীবন যেন পরিচালনা করি। আর এই ক্ষেত্রে বিশাল এক পার্থক্য হয়ে যায় - যা হলো আমরা কুরআনের আরবিটা পড়ে যাই অথচ অর্থ বুঝি না। অত্যন্ত জরুরি বিষয় হলো যে আমাদেরকে কোরআনের অর্থটা বুঝতে হবে। বুঝলে পড়ে তা আমরা সঠিকভাবে জীবন পরিচালনায় প্রয়োগ করতে পারব। আর এখন যা কিছু হচ্ছে তা দেখলে বুঝা যাচ্ছে ব্যাপারটা এমন... ডাক্তার আমাদের অসুস্থতার জন্য এক বোতল ওষুধ খেতে দিয়েছে। আমরা ভিতরের ওষুধটুকু না খেয়ে বোতল টাই খেয়ে ফেললাম। কোরআনকে বুঝার ক্ষেত্রে আমাদের এখন ঠিক এমনটাই ঘটছে।
দেখুন আপনি যখন কোন কিছু বুঝতে পারবেন না তখন সেটা আপনার অনুভূতিতে যাবেনা। আর যখন বুঝতে পারবেন সেটা আপনার অনুভূতির সাথে কাজ করবে এবং আল্লাহকে আপনি সেই ভাবে অনুভব করতে পারবেন। তার কথা আপনি অনুভব করতে না পারলে আপনি সেটা আপনার অনুভূতির মাধ্যমে কাজে লাগাতে পারবেন না। এটা অত্যন্ত সহজ কথা এবং এটা বুঝতে পারার কথা। সহজ ব্যাপার টুকু বোঝার পরেও যদি আপনি না বোঝার মধ্যে থাকতে চান সেটাও কিন্তু দুঃখজনক বিষয়। তাই আমাদের কোরআনকে বুঝে পড়ে সেটাই প্রয়োগ করা উচিত।
আল-কুরআন বিশ্বমানবতার একমাত্র মুক্তি সনদ। বিশ্বনবী আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ (সা) এর মাধ্যমে আল্লাহ তা'য়ালা কর্তৃক প্রেরিত এই পবিত্র মহাগ্রন্থ আমাদের জন্য সর্বোত্তম নেয়ামত। এই কুরআন অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা যেমন ফরজ তেমনি এই কুরআনকে শুদ্ধ করিয়া পড়া প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর জন্য অবশ্য কর্তব্য। হযরত মুহাম্মদ (সা) বলিয়াছেন, "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে কুরআন (শুদ্ধভাবে) শিক্ষা করে এবং অন্যকে (শুদ্ধভাবে) শিক্ষা দেয়।” কিন্তু সহজ ও আধুনিক পদ্ধতিতে সহীহ-শুদ্ধভাবে কুরআন পড়িবার । এবং গড়াইবার তেমন কোনো কলা-কৌশল সম্বলিত ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা নাই বলিলেই চলে। তাই সহীহ-শুদ্ধভাবে কুরআন পড়িবার এবং পড়াইবার জন্য তাজবীদের বিভিন্ন কিতাব-পত্র ও দক্ষ কারীগণ হইতে সহযোগিতা নিয়া 'পড়তে হয়।
![]() |
কোরআন বুঝে পড়া সবচেয়ে জরুরী |
আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় কোরআন পড়ার ক্ষেত্রে যেভাবে অজু করে পাক-পবিত্র হয়ে বসে কোরআন ধরতে হবে এই নমুনাগুলো বলা হয়েছে। এগুলি কখনোই যুক্তিগত না। এগুলি সমাজব্যবস্থাকে কোরআন বুঝার ক্ষেত্রে অনেক দূরে ঠেলে দিয়েছে। কতিপয় স্বার্থান্বেষী কিতাবি গন তাদের নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন ধরনের ভুল বুঝিয়েছেন আমাদের পূর্বপুরুষদের। দেখুন আপনি এই অযুর কথা বলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিভিন্ন আঙ্গিক গুলো বলার মাধ্যমে কোরআন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। আপনি নিশ্চয়ই ভালো করে জানেন যে স্ত্রী সঙ্গমের পরে আপনার যে অপবিত্রতা তার সাথে সাথে এসে আপনি কোরান ধরছেন না। আর এটা যদি হয়েই থাকে একটা মানুষ অতটুকু অপবিত্র থাকে না যাতে কোরআন ধরা যাবে না। তাই কোরআন ধরার ক্ষেত্রে অজুর বাধ্যবাধকতা নাই এটা আপনি শিওর ভাবে বুঝতে পারেন। অতএব আপনি যত বেশি কোরআন বুঝার মাধ্যমে তার কাছাকাছি থাকবেন আপনার জীবন চলার পথ ততই সহজ হয়ে যাবে। এর মাঝখানে অকারণে অযুকে এনে পাক পবিত্রতার বিভিন্ন প্রশ্নগুলোকে এনে কোরআন থেকে দূরে সরে যাওয়ার যে প্ররোচনা সেগুলো থেকে আশা করি সবাই মুক্ত থাকবেন।
