গুনাহ কত প্রকার ও কি কি? বিবরন...


১। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উপাসনা করা ও অন্য কারো কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।

২। কা'বা ঘর তওয়াফের ন্যায় কোন কবর বা মাজারের চতুর্দিকে তওয়াফ করা, মাজারের বুজুর্গের নিকট কোন সাহায্য প্রার্থনা করা। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে নামায পড়া কিংবা রোযা রাখা, আল্লাহ তা'আলার ন্যায় অন্য কারো নামে তাসবীহ বা অজিফা পাঠ করা।

৩। কোন মুরীদ যদি তার পীরের প্রতি এরূপ ধারণা করে যে, সে গায়েব জানেন। অথবা পীর আওলিয়াদের কারামাত প্রত্যক্ষ করে যদি ধারণা করে যে, আল্লাহ তা'আলা স্বীয় খোদায়িত্বের কিছু অংশ তাকে প্রদান করেছেন কিংবা তাঁর জাতের সাথে ফানা করে দিয়েছেন।

৪ । আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে বা বস্তুকে সিজদা করা শিরেকী গুণাহ্ । আল্লাহ্ তা'আলা কোরআন শরীফে সূরা হা-মীম-সিজদা এর ৩৭তম আয়াতে বলেন –

উচ্চারণ ঃ ওয়া মিন্ আ-ইয়াতিহি ল্লাইলু ওয়ান্নাহা-রু ওয়াশ্ শামসু ওয়াল্ কামারু ; লা-তাজ্জুদূ লি শামসি ওয়ালা-লিল্কামারি; ওয়াজ্জুদূ লিল্লা- হিল্লাবী- খলাক্বাহুন্না ইন কুনতুম ইয়্যা-হু তা'বুদূ-ন

অর্থ ঃ “রাত, দিন এবং চন্দ্র, সূর্য তাঁরই নিদর্শনের মধ্য হতে; তোমরা সূর্য ও চন্দ্রকে সিজদাহ্ করোও না বরং তোমরা আল্লাহকে সিজদা কর যিনি এ সমস্ত সৃষ্টি করেছেন যদি তোমরা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই এবাদতকারী হও।”

গুনাহ কত প্রকার ও কি কি?

গুনাহ কত প্রকার ও কি কি? 

গুনাহের কাজের বিবরন

  • লোভ-হিংসা-অহংকার গুনাহের বীজ 
  • শুধু নিজের স্বার্থের উদ্দেশ্যে মগ্ন থাকা
  • হালাল-হারাম ঘোষণা করার অধিকার একমাত্র আল্লাহর। এ বিষয়ে সন্দেহ পোষন গুনাহ।
  • হালালকে হারাম ও হারামকে হালালকরণ শিরক পর্যায়ে অপরাধ
  • হারাম জিনিস বেছে নেয়া
  • নিয়ত ভাল হলেই হারাম হালাল হয় না 
  • সন্দেহপূর্ণ কাজ এ অংশগ্রহণ 
  • প্রয়োজনে নিষিদ্ধকে বৈধ করা
  • মৃত জন্তু খাওয়া 
  • শূকরের গোশত খাওয়া 
  • সমস্ত মাদক দ্রব্যই গুনাহ
  • ক্ষতিকর জিনিস মাত্রই গুনাহ
  • অপরিচ্ছন্নতা চলাফেরা 
  • স্বর্ণ ও রেশমী কাপড় পুরুষদের ব্যাবহার গুনাহ
  • সৌন্দর্যের জন্যে আল্লাহ সৃষ্টি বিকৃতকরণ
  • দেহে চিত্র অংকন, দাঁত শানিতকরণ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্যে অপারেশন করান
  • ভ্রূ সরুকরণ
  • চুলে জোড়া লাগান
  • দাড়ি না রাখা
  • চুল-দাড়িতে কালো রঙ লাগানো
  • ঘর বসবাসের স্থান অপরিষ্কার রাখা
  • ছবি বা প্রতিকৃতি ঘরে রাখা
  • জেনা বা ব্যাবিচার করা
  • মুসলমান ভাইর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা
  • অন্যের বিদ্রুপ করা
  • দুর্নাম করা, দোষী করা
  • খারাপ উপাধিতে ডাকা
  • খারাপ ধারণা করা
  • দোষ খুঁজে বেড়ানো
  • গীবত করা
  • চোগলখোরী/ছিদ্রান্নেষন করা
  • চুক্তি সম্পন্ন না করা
  • আত্মহত্যা মহাপাপ 
  • ঘুষ নেয়া হারাম
  • শাসক - প্রশাসকদের জন্যে উপটৌকন
  • জুলুম বন্ধের জন্যে ঘুষ দেয়া
  • নিজেদের ধন-মাল অপব্যয় করা অমুসলিমের সাথে সম্পর্ক
  • আহলি কিতাবের প্রতি বিশেষ সুবিধা দান
  • অমুসলমানের কাছে সাহায্য চাওয়া।
অনেক জ্ঞানহীন লোক তাঁদের পীর-মুরশিদকে সিজদা করে থাকে এটা সর্বাবস্থা, হারাম ও শেরেকী গুনাহ্। আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কাকেও সিজদা করলে সে কাফের হয়ে যাবে।

রিযিক বৃদ্ধি, উদ্দেশ্য লাভ করা, রোগ-ব্যধি হতে মুক্তি লাভ করার নিয়তে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে প্রার্থনা করা, মান্নত করা বা জপ করা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও শেরেকী গুনাহ্। যে কোন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য পীর-অলীদের নিকট প্রার্থনা করা শেরেকী গুনাহ্। তবে তাদের উছিলায় আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা যায়েয হবে। গণককে হাত দেখিয়ে তার কথায় ভাগ্যের ভাল-মন্দ বিশ্বাস করা শেরেকী গুনাহ্ ।

শেরেকী গুনাহের ভেতরে কোন কোন শেরেক স্পষ্ট বা প্রকাশ্য রয়েছে, যেমন- চন্দ্র, সূর্য, অগ্নি ও দেব-দেবীর মূর্তি পূজা করা। এ ধরনের শেরেককে “শিরকে জলী' বলা হয়ে থাকে। আবার অনেক শেরেকী গুনাহ্ এমনি অস্পষ্ট যে, তা সাধারণ লোকেরা জ্ঞানের অভাবে বুঝিতে সক্ষম হয় না বলে শেরেকী শুনাহে লিপ্ত হয়ে থাকে। যেমন ঔষধ সেবন করতঃ আরগ্য লাভ করে ধারণা করা যে, ঔষধই নিরাময়কারী। যদি কোন মানুষকে বলে যে, “উপরে আল্লাহ নীচে আপনি ব্যতীত আমার আর কেউ সাহায্যকারী নেই।" অথবা এইরূপ কথা বলা যে, “অমুকে আমাকে বাঁচিয়েছে কিংবা “অমুকে আমার সর্বনাশ করেছে”। ইত্যাদি ধারনা করা বা বলা শেরেকী গুনাহ হবে। একে “শিরকে খফী” বলা হয়ে থাকে।