প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলারা ওড়না ছাড়া সালাত আদায় করলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হবেনা। [বুখারী/৩৬৫, আবূ দাউদ/৬৪১]
তাবেঈ তাউস (রহঃ) থেকে বর্ণিত: আয়িশা (রাঃ) আযান ও ইকামাত দিতেন এবং মেয়েদের নামাযে ইমামতি করতেন। [মুসতাদরাক হাকিম- ১/২০৩ পৃষ্ঠা, মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবা-১/২২৩ পৃষ্ঠা, বাইহাকী-১/৪০৮ পৃষ্ঠা| তবে ঐ আযান কিংবা ইকামাত এমন অনুচ্চ শব্দে হওয়া উচিত যাতে মেয়েদের জামা'আতেই উহা সীমাবদ্ধ থাকে এবং পর পুরুষে না শোনে। [আল মুগনী-১/৪২২ পৃষ্ঠা, ফিকহুস সুন্নাহ-১/১২০ পৃষ্ঠা]
পুরুষ যে পদ্ধতিতে নামায আদায় করে মহিলাদেরকেও অনুরূপ পদ্ধতিতে আদায় করতে হবে। কেননা নারী ও পুরুষ সবার প্রতি রাসূলের (সাঃ) সুস্পষ্ট নির্দেশ হল : “তোমরা ঐ ভাবেই নামায আদায় কর, যেভাবে আমাকে নামায আদায় করতে দেখছ। [বুখারী/৬০১]
বর্তমান সমাজের কিছু কিছু আলেম
কুরআন ও সহীহ হাদীসকে অমান্য করে তাদের মনগড়া ফাতওয়া দিয়ে মহিলাদের নামায আদায়ে নূতন নিয়ম-কানূন বানিয়ে দিয়েছেন, যা নিম্নরূপ :
(১) তাদের জন্য মসজিদে জামা'আতে শরীক হওয়া নিষিদ্ধ বলে মনে করে।
(২) মহিলাদের জন্য কোন পুরুষ ইমাম হওয়া জায়েয নয় বলে মন্তব্য করেন।
(৩) মহিলারা তাকবীরে তাহরীমা বাঁধার সময় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাবে।
(৪) মহিলারাই শুধু নামাযে হাত বুকের উপর রাখবে।
(৫) মহিলারা রুকূতে পুরুষদের তুলনায় কম ঝুঁকবে এবং রুকূতে উভয় বাহু পাঁজরের সঙ্গে পরিপূর্ণ মিলিয়ে রাখবে।
(৬) তারা সাজদায় পুরুষের ন্যায় কনুইদ্বয় খোলা ও ছড়িয়ে রাখবেনা।
(৭) সাজদায় উভয় রানের সঙ্গে পেট মিলিয়ে রাখবে।
(৮) বাহুদ্বয় সাধ্যনুযায়ী পাঁজরের সঙ্গে মিলিয়ে রাখবে
(৯) সাজদায় উভয় হাতের কনুইও মাটিতে রাখবে।
(১০) সাজদায়
যাওয়ার সময় প্রথমে বসে, তারপর সাজদায় যাবে ইত্যাদি, যা সহীহ হাদীসের বিপরীত পদ্ধতি।
তাই এ সকল নিয়মে নামায আদায় করা যাবেনা)
নামাযের
বিভিন্ন নিয়ম কানূন
- মসজিদে প্রবেশ করে বসার আগে দুই রাক'আত নামায আদায় করতে হবে। [বুখারী/৪৩১, মুসলিম/১৫২৪
- জামা'আতের নামাযে মুক্তাদীরা কোন কাজ (যেমন তাকবীরে তাহরীমা, |রুকু,
সাজদা, সালাম ফিরানো) ইমামের আগে আগে করলে কিয়ামাত দিবসে তার আকৃতি গাধার আকৃতি করে
দেয়া হবে। মুসলিম / ৮৪৭
- নামাযরত অবস্থায় আকাশের দিকে কিংবা এদিক-ওদিক তাকানো নিষেধ। [বুখারী/৭১২, 913]
- আল্লাহ হাঁচিকে পছন্দ করেন এবং হাই তোলাকে অপছন্দ করেন। নামাযর রত অবস্থায় কেহ যদি হাই তোলে তাহলে সে যেন তা প্রতিহত করে। নামাযে হাঁচির জবাব দেয়া নিষেধ। [আবূ দাউদ/৪৯৪৪, ১৩০, মুসলিম/৭২২৩)
- নামাযরত অবস্থায় চোরে যদি কারও কোন কিছু চুরি করে তাহলে নামাযছে ছেড়ে দিয়ে চোরকে ধরা যাবে। [বুখারী/অনু: ৪১৬]
- নামাযরত অবস্থায় চুল অথবা কাপড় হাত দ্বারা ধরে রাখা নিষেধ। হিনজা মাজাহ / ১০৪০ )
- প্রস্রাব-পায়খানার বেগ আসা অবস্থায় নামায আদায় করা নিষেধ। [মুসলিম/১১২৬]
- নামাযরত অবস্থায় সাপ, বিচ্ছু হত্যা করা যাবে। [তিরমিযী/৩৯০]
- নামাযরত অবস্থায় কথা বলা ও সালামের জবাব দেয়া নিষেধ। [আবূমা উস/৯২৩)
- নামাযরত অবস্থায় কাঁকর বা পাথর ইত্যাদি একবারের বেশি সরানো নিষেধ। [মুসলিম/১১০০)
- কাঁচা পিঁয়াজ, রসুন কিংবা এরূপ গছ জাতীয় খাদ্যের দুর্গন্ধ মুখে নিয়ে নামায আদায় করা নিষেধ। [বুখারী/৮০৯, মুসলিম/১১৩৪]
- ইমাম ভুল করলে পুরুষ মুক্তাদী 'সুবহানাল্লাহ' বলবে এবং মহিলা মুক্তাদী ডান হাত দিয়ে বাম হাতের পিঠ চাপড়াবে'। [বুখারী/১১২৫, মুসলিম/৮৩৭]
