গোসলের পদ্ধতি
·
গোসল করার সময় ডান দিক থেকে শুরু করতে হবে। [মুসলিম/৫০৭]
·
মাইমূনা (রাঃ) বলেছেনঃ আমি রাসূলের (সাঃ) জন্য পর্দা করেছিলাম,
আর তিনি জানাবাতের* গোসল করেছিলেন। তিনি প্রথমে দুই হাত ধৌত করলেন। তারপর ডান হাত দিয়ে
বাম হাতে পানি নিয়ে লজ্জাস্থান এবং যেখানে কিছু লেগে ছিল তা ধুইয়ে ফেললেন। তারপর
মাটিতে বা দেয়ালে হাত ঘষলেন এবং দুই পা ছাড়া নামাযের উযূর মতই উযূ করলেন। তারপর তাঁর
সমস্ত শরীরে পানি পৌঁছালেন। তারপর একটু সরে গিয়ে দুই পা ধুইলেন। [বুখারী/২৭৭]
(* মিলন, স্বপ্নদোষ, কামভাবে শুক্র নির্গত হলে শরীর অপবিত্র
হয়। এই অপবিত্রতাকে জানাবাত বলে)
· আয়িশা (রাঃ) বলেছেন : আমাদের কারও জানাবাতের গোসলের প্রয়োজন হলে (প্রথমে লজ্জাস্থান ভালভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে তারপর উপরের বর্ণিত নিয়মে উহ্ করতে হবে) সে দুই হাতে পানি নিয়ে তিনবার মাথায় ঢেলে দিত। পরে হাতে পানি নিয়ে ডান পাশে তিনবার এবং বাম পাশে তিনবার ঢেলে দিত (অতঃপর মাথা থেকে পা পর্যন্ত সমস্ত শরীরে পানি পৌঁছাতে হবে)। [বুখারী/২৭৪]
পোশাক প্রসঙ্গ
·
আল্লাহ তা'আলা বলেন : হে বানী আদম! প্রত্যেক নামাযের সময় তোমরা
সুন্দর পোশাক পরিধান করবে... । [ সূরা আ'রাফ-৩১) (নামায শুরুর পূর্বে অবশ্যই সামর্থ্য
অনুযায়ী সুন্দর পোশাক পরিধান করতে হবে)।
·
আল্লাহ তা'আলা কিয়ামাত দিবসে তিন ব্যক্তির সাথে কথা বলবেননা,
তাদের প্রতি তাকাবেননা, তাদের পবিত্র করবেননা, আর তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। এরা
হচ্ছে ঃ যে ব্যক্তি টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে কাপড় (লুঙ্গি, পাজামা, প্যান্ট ইত্যাদি) পরে,
যে ব্যক্তি দান করে খোঁটা দেয় এবং যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে।
[মুসলিম / ১৯৫, নাসাঈ / ২৫৬৬]।
·
এক কাপড় পরে নামায আদায় করার সময় উভয় কাঁধে কাপড় না জড়িয়ে
নামায আদায় করা নিষেধ। [বুখারী/৩৫২]
·
মহিলারা জামা, ওড়না পরিধান করবে এবং এমনভাবে পাজামা/পোশাক
· পরিধান করবে যাতে পায়ের পাতা ঢেকে থাকে । [আবূ দাউদ/৬৩৯]
পুরুষ ও মহিলাদের পালনীয়/করণীয় অভ্যাস
আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেছেন : আমাদের জন্য গোঁফ (মোচ) ছাঁটা, নখ কাটা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা এবং নাভির নিচের পশম কাটার সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল, তা চল্লিশ দিনের অধিক যেন না হয়। [মুসলিম/৪৯০]।
প্রস্রাব-পায়খানা হতে পবিত্র হওয়ার নিয়ম
·
যদি তোমরা পীড়িত হও, কিংবা প্রবাসে অবস্থান কর অথবা তোমাদের
মধ্যে কেহ পায়খানা হতে প্রত্যাগত হয় কিংবা রমণী স্পর্শ করে এবং পানি না পাওয়া যায়
তাহলে বিশুদ্ধ মাটির অন্বেষণ কর...। [সূরা নিসা-৪৩]
·
আয়িশা (রাঃ) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের স্বামীদের পানির সাহায্যে
শৌচক্রিয়া সম্পাদন করতে বলবে, আমি নিজে তাদের সে কথা বলতে লজ্জাবোধ করি যে, রাসূল
(সাঃ) নিজেও এরূপ করতেন। [বুখারী/২১৭, তিরমিযী /১৯, নাসাঈ / 86] (পানির ব্যবস্থা থাকার
পরও ঢেলা কুলুখ ব্যবহার করার কথা সহীহ হাদীসে নেই। তদুপরি আমাদের সমাজের কিছু কিছু
পুরুষকে ঢেলা কুলুখ নিয়ে পায়খানা/প্রস্রাবখানা থেকে বের হয়ে নির্লজ্জের মত গোপনাঙ্গ
ধরে রাস্তায় জনসম্মুখে হাঁটাহাঁটি, পা কুচি মারা, কুথ ও কাঁশির মাধ্যমে অন্যের দৃষ্টি
আকর্ষণ করার মত বেহায়াপনার আচরণ করতে দেখা যায়। বলা হয় যত বৎসর বয়স, তত কদম হাঁটা
চাই। আরও বলা হয়ে থাকে এ ঢেলা নাকি হাশরের দিন সাওয়াবের পাল্লায় রাখা হবে। এই সমস্ত
অর্থহীন কথাবার্তা আল্লাহ তা'আলার দীন ইসলামের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং তা ইসলাম বিকৃতির
নামান্তর)।
·
প্রস্রাব ও পায়খানার
সময় কিবলার দিকে মুখ করে বা পিঠ দিয়ে বসা নিষেধ। [বুখারী/৩৮৬/
· প্রস্রাব ও পায়খানায় প্রবেশের সময় “আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল খুবুছি ওয়াল খাবায়িছ” এবং বের হওয়ার সময় “গুফরানাকা" বলতে হয়। [বুখারী/১৪৪, তিরমিযী /৭]
