যিকির | যার দিলে যিকির আছে তার দিল জিন্দা

 بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি 

Jikir

যার দিলে যিকির আছে তার দিল জিন্দা


যিকরের ফযীলত

মহান আল্লাহ বলেনঃ

فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ ) [البقرة : ١٥٢]

অর্থঃ 'অতঃপর তোমরা আমাকে স্মরণ করো আমি

তোমাদেরকে স্মরণ রাখবো। আর তোমরা আমার প্রতি

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো বং আমার নিয়ামতের নাশোকরী করো

يَتأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا )

[ الأحزاب : ٤١] অর্থঃ হে ঈমানদারগণ ! আল্লাহকে বেশী বেশী করে স্মরণ (

وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالدَّكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُم

مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا ﴾ [سورة الأحزاب : ٣٥ ]

"আর আল্লাহকে অধিক মাত্রায় স্মরণকারী পুরুষ ও নারী, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও বিরাট পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন।" 

وَاذكُر رَّبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَخِيفَةً وَدُونَ الْجَهْر مِنَ الْقَوْل بِالْغُدُو وَالْآصَالِ وَلَا تَكُن مِّنَ الْغَفِلِينَ )

"তোমার রব্বকে স্মরণ করো মনের মধ্যে দীনতার সাথে ও ভীতি সহকারে এবং উচচ আওয়াজের পরিবর্তে নিম্ন-স্বরে সকাল সন্ধ্যায় (অর্থাৎ সর্বক্ষণ) আর তোমরা উদাসীনদের ( গাফিল ) অন্তর্ভূক্ত হয়োনা” । 

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “যে ব্যক্তি তার রব্বকে যিকর (স্মরণ) করে, আর যে ব্যক্তি তার রব্বের স্মরণ করেনা, তাদের দৃষ্টান্ত হলো জীবিত ও মৃতের ন্যায়" । ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেনঃ যে গৃহে আল্লাহর যিকর হয় ও যে গৃহে হয় না, তাদের দৃষ্টান্ত জীবিত ও মৃতের ন্যায়।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ”আমি কি তোমাদের উত্তম আমলের কথা জানাবনা, যা তোমাদের প্রভুর কাছে অত্যন্ত পবিত্র, তোমাদের জন্য অধিক মর্যাদা বৃদ্ধিকারী ( আল্লাহর পথে ), সোনা-রূপা ব্যয় করা অপেক্ষা উত্তম এবং তোমরা তোমাদের শত্রদের মুখোমুখি হয়ে তাদেরকে হত্যা করার চাইতেও অধিকতর শ্রেয়?

সাহাবাহগণ বললেন: হ্যাঁ, তিনি বললেন, আল্লাহ তায়ালার যিকির।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তা'য়ালা বলেন : "আমার বান্দাহ আমার সম্পর্কে যেমনি ধারণা করে তেমনি। সে যখন আমাকে স্মরণ করে। তখন আমি তার সাথে থাকি। যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে, আমিও আমার মনের মধ্যে তাকে স্মরণ করি। আর, যদি কোন সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তাহলে আমি তাকে এর চাইতে উত্তম সমাবেশে স্মরণ করি । আর, সে যদি আমার দিকে অর্ধহাত এগিয়ে আসে, আমি এগিয়ে আসি তার দিকে এক হাত । আর, সে এক হাত এগিয়ে আসলে, আমি তার দিকে দু হাত এগিয়ে আসি এবং সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে আসি ।

আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর রাদি আল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আরজ করলো, হে আল্লাহর রাসূল, ইসলামের বিধি- বিধান আমার জন্য বেশী হয়ে গেছে, কাজেই আপনি আমাকে এমন একটি বিষয়ের খবর দিন, যা আমি শক্ত করে আঁকড়ে ধরবো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বললেন : 'তোমার জিহবা যেন সর্বক্ষণ আল্লাহর যিকিরে সিক্ত থাকে। 

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব (কুরআন) থেকে একটি হরফ পাঠ করে, সে তার বদলা একটি নেকী পায়; আর, একটি নেকী হবে দশটি নেকীর সমান। আমি আলিফ, লাম, মীম,কে একটি হরফ বলছি না। বরং আলিফ, একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম, একটি হরফ ।

উকবা ইবনে আমের রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বের হলেন। আমরা তখন সুফফায় অবস্থান করছিলাম। (সুফফা । হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ঘরের ন পার্শ্বে বাস্তুহারা গরীব সাহাবীসহ নও-মুসলিমদের থাকার স্থান)। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে কে আছে যে, প্রত্যেকদিন সকালে বুতহান অথবা আক্বীক উপত্যকায় গিয়ে সেখান থেকে কোন প্রকার পাপ বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা ছাড়া উঁচু কুঁজ বিশিষ্ট দুটো উট নিয়ে আসতে ভালবাসে? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা তা করতে • ভালবাসি। তিনি বললেনঃ তোমরা কি এরূপ করতে পারো না। - যে, সকালে মসজিদে গিয়ে মহান আল্লাহর কিতাব হতে দুটো আয়াত শিক্ষা দিবে অথবা পড়বে। এটা তার জন্য দুটো উট হতে উত্তম হবে, তিনটি আয়াত তার জন্য তিনটি উট হতে উত্তম এবং চারটি আয়াত চারটি উট হতে উত্তম হবে। এভাবে আয়াতের সংখ্যা উটের সংখ্যা হতে উত্তম হবে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “যে ব্যক্তি কোন স্থানে বসে আল্লাহর যিকির করে না, তার - সেই উপবেশণ আল্লাহর নিকট থেকে নৈরাশ্য ডেকে আনে । আর যে ব্যক্তি কোন শয্যায় শায়িত হয়ে আল্লাহর যিকির করেনা তার সেই শয়নও আল্লাহর কাছে নৈরাশ্যের কারণ (অথাৎ এই উদাসীন অবস্থা তার জন্য ক্ষতিকর, তথা হতাশ ও আপেক্ষের কারণ)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন। "যদি কোন দল কোন বৈঠকে বসে আল্লাহর যিকির না করে এবং তাদের নবীর উপর দরুদও পাঠ না করে তাহলে, তাদের সেই বৈঠক তাদের পক্ষে হতাশার কারণ হবে। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদেরকে শাস্তি দেবেন অথবা তাদের ক্ষমা করবেন।

যে সব লোক এমন কোন বৈঠকে অংশ গ্রহণের পর উঠে আসে যেখানে আল্লাহর নাম স্মরণ করা হয় না, তারা যেন মৃত গাধার লাশের স্তুপ হতে উঠে আসে । এরূপ মজলিস তাদের জন্য আফসোসের কারণ"