হজ্জ ৩ প্রকার
১. ইফরাদ
শুধু হজের নিয়তে ইহরাম ধারণ করে ওই ইহরামেই হজের সব আমল সম্পন্ন করা।
২. তামাত্তু
শুধু ওমরাহর নিয়তে ইহরাম ধারণ করে ওমরাহর কাজ সমাপ্ত করা। এরপর মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়া। অতঃপর ওই সফরেই হজের নিয়তে ইহরাম বেঁধে হজের সব আমল সম্পাদন করা।
৩. কিরান
একসঙ্গে ওমরাহ ও হজের নিয়তে ইহরাম ধারণ করে ওই (একই) ইহরামেই ওমরাহ ও হজ পালন করা। এ তিন প্রকারের মধ্যে উত্তম হলো 'কিরান।' কিন্তু ইহরাম দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে নিষেধাজ্ঞাবলি সঠিকভাবে মেনে চলতে না পারার আশঙ্কা থাকলে হজে তামাত্তুই উত্তম। (ফাতাওয়া শামি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৫২৯)
হজ্জের দোয়া ও আদব সমূহ :
মুহরিম হজ্জ এবং উমরাতে কিভাবে তালবিয়াহ পড়বে ?
আরবি....
"লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক,
লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইকা, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নিয়ামাতা , লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাকা, লাব্বাইক।"
অর্থাৎ, হে আল্লাহ ! আমি তোমার দরবারে হাজির, আমি তোমার দরবারে উপস্থিত, আমি তোমার দরবারে হাজির তোমার কোন অংশীদার নেই, তোমার দরবারে উপস্থিত হয়েছি। সর্ব প্রকার প্রশংসা এবং নেয়ামতের সামগ্রী সবই তো তোমার, সর্ব যুগে ও সর্বত্র তোমারী রাজত্ব, তোমার কোন অংশীদার নেই।” (২২১)
হাজরে আসওয়াদের সামনে তাকবীর বলা
'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটের উপর আরোহণ করে কাবা শরীফ তাওয়াফ করেছেন । যখন তিনি হাজরে আসওয়াদের কাছে পৌঁছতেন তখন সে দিকে কোন জিনিস দ্বারা ইশারা করতেন এবং তাকবীর বলতেন।
হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীর মধ্যবর্তী স্থানে পাঠ করার দু'আ
'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীর মধ্যবর্তী স্থানে এই দু'আ পাঠ করতেন :
“হে আমাদের রব্ব ! তুমি আমাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ দান কর এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন হতে বাঁচাও।” (223)
সাফা ও মারওয়ায় দাঁড়িয়ে পাঠ করার দু'আ
২৩৬, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হজ্জের নিয়মাবলীতে জাবের রাদিআল্লাহু আনহু বলেন : নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সাফা পর্বতের নিকটবর্তী হতেন, এই আয়াত পাঠ করতেন :
“নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন সমূহের অন্তর্ভূক্ত।” তিনি আরো বলেন : “আমি তা দিয়ে আরম্ভ করব যা দিয়ে আল্লাহ পাক আরম্ভ করেছেন।” অতঃপর তিনি সাফা পর্বত হতে আরম্ভ করেন এবং তার উপর আরোহন করে কাবা শরীফ দেখেন এবং কিবলামুখী হন, তারপর আল্লাহর একত্ববাদের বর্ণনা করেন এবং তাকবীর বলেন, অতঃপর এই দু'আ পাঠ করেন :
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ الجز وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، لا إلهَ إِلا الله وَحْـ وَعْدَهُ ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ )) .
অর্থঃ “আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের কোন সত্য মাবুদ নাই, তিনি একক তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা মাত্রই তাঁর। তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তিনি তাঁর র ওয়াদাপূর্ণ করেছেন এবং তিনি তাঁর বান্দাহকে সাহায্য স্ত্রী করেছেন আর তিনি একাই শত্রুবাহিনীকে পরাভূত করেছেন। এই ভাবে তিনি এর মধ্যবর্তীস্থানেও দু'আ করতে থাকেন - এই দু'আ তিনবার পাঠ করেন। (আল হাদীস) উক্ত হাদীসে আরো আছে “এই ভাবে তিনি মারওয়াতেও অনুরূপ করতেন যেভাবে সাফা পর্বতে করেছেন।” (২২৪)
১১৯. আরাফাত দিবসের দু'আ
২৩৭. শ্রেষ্ঠ দু'আ হচ্ছে আরাফাত দিবসের দু'আ, আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণ (আলাইহিস সালাম) কর্তৃক উচ্চারিত শ্রেষ্ঠতম দু'আ হচ্ছে :
((
অর্থঃ 'আল্লাহ ব্যতীত ইবাদতের যোগ্য কোন সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক তাঁর কোন শরীক নেই, সমগ্র রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই জন্য। তিনিই সমস্ত জিনিসের উপর ক্ষমতাশীল। (২২৫)
১২০.মুজদালিফায় পাঠ করার দু'আ ২৩৮. জাবের রাদিআল্লাহু আনহু বলেন : নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম “কাসওয়া” নামক উটে আরোহন করে মুজদালাফায়ে আসেন। অতঃপর কিবলামুখী হয়ে দু'আ করেন। এবং তাকবীর বলেন, “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু” পাঠ করেন এবং তাঁর একত্বতার বর্ণনা করেন। তারপর তিনি পূর্ণ ফর্সা না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন। অতঃপর সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বেই তিনি মুজদালাফা ত্যাগ করেন।
১২১. প্রতিটি জামরায় কংকর মারার সময়
তাকবীর বলা
২৩৯, জামরাগুলোতে প্রতিটি কংকর মারার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকবীর বলতেন, অতঃপর কিছুটা অগ্রসর হয়ে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়াতেন এবং প্রথম জামরা ও দ্বিতীয় জামরায় দু'হাত উঁচু করে দু'আ করতেন। অপর পক্ষে তৃতীয় জামরায় কংকর মারতেন এবং প্রতিটি কংকর মারার সময় তাকবীর বলতেন, আর সেখানে অবস্থান না করে ফিরে আসতেন।'
