হাদিস কি? কেন অনুসরণ করতে হবে?

sohi.islam.shikkha.hadis

sohi.islam.shikkha.hadis


 সমস্ত প্রশংসা রাব্বুল আলামীনের জন্য যিনি আমাদেরকে ইসলামী অমূল্য ধনে ধনী করেছেন এবং প্রাণঢালা দরূদ ও সালাম সেই প্রিয় হাবীব হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা এক্স-এর প্রতি যিনি গোনাহগার উম্মতের মঙ্গলের জন্য সর্বাদা সচেষ্ট ছিলেন এবং কিয়ামতের দিন সুপারিশের আশ্বাস দিয়ে আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন ।

শিশু-কিশোরদের মন কচি ও নরম । জীবনের শুরুতে তাদের মনে যে দাগ কাটে, যে রেখাপাত হয় তা কখনো মুছে যায় না। কচি-কাঁচাদের পবিত্র মনভূমিতে ইসলামের আদর্শ ও জীবনের করণীয় এবং মানবতাবোধের বীজ বপন করা হলে তা সময়ে ফুলে ফলে সুশোভিত হবে ইসলামের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে এবং মুসলিম সমাজ সমৃদ্ধ হবে, হবে সুগঠিত ।

মুসলিম শিশু-কিশোরদের চরিত্র গঠনে শিক্ষিত সমাজে, বিশেষ করে প্রত্যেক পিতা-মাতার সচেষ্ট থাকাবিশেষ প্রয়োজন । এ বিষয়ে আমাদের প্রত্যেকের চিন্তা- ভাবনা করা পবিত্র দায়িত্ব । এই পবিত্র দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে আমাদের হাতে অর্পিত অমূল্য আমানত শিশু- কিশোর ছাত্র-ছাত্রীদের সুন্দর ও আদর্শ জীবন গঠনের সহায়ক ‘চল্লিশ হাদীস ও চল্লিশ বাণী' সংকলিত হল, যাতে করে ছাত্র-ছাত্রীরা হাদীস ও বুযুর্গানে দীনের মূল্যবান বাণীসমূহ মুখস্থ করে রাখতে এবং বুঝতে পারে ।

এই ‘চল্লিশ হাদীস ও চল্লিশ বাণী' জীবন-চলার পথে মূল্যবান পাথেয় হবে এবং সুন্দর জীবন গঠনে সহায়ক হবে বলে আমার বিশ্বাস । মাদরাসা ও স্কুলে এই পুস্তিকাটি ছাত্র-ছাত্রীদের অতিরিক্ত পাঠ্য-পুস্তক হিসেবে মনোনীত হলে ইসলামী জিন্দেগির পথ সুগম হবে বলে আশা রাখি । এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ রইল ।

হাদীস সংরক্ষণ ও প্রচার করা প্রত্যেক মুমিনের পবিত্র কর্তব্য। সাথে সাথে উম্মতে মুহাম্মদী অঙ্গ হতে আল্লাহ তা'আলার বিশেষ রহমত ও দয়ার দ্বারা নির্বাচিত নায়েবে রাসূলদের, ওলামায়ে হক্কানী ও আলেমে রাব্বানী এবং জাহেরী বাতেনী জ্ঞানে-জ্ঞানীর একটি বাণী যেন অমূল্য রত্ন। এতে যেন বিন্দুর মধ্যে সিন্ধুর গভীরতার সন্ধান মিলে ৷

আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই রত্ন সংগ্রহ এবং সে অনুসারে জীবন গঠনের তাওফীক দান করুন। আমীন ।


হাদীস কেন পড়ব?

কুরআন মজীদ যেমন আল্লাহ তা'আলার পবিত্র বাণী তেমনি হাদীস শরীফও আল্লাহরই বাণী, যা তিনি নবী করীম -কে সরাসরি অবহিত করেছেন । আল্লাহপাক ইরশাদ করেন,

وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْى يُوحَى )

‘এবং তিনি (রাসূল সাঃ) মনগড়া কথা বলেন না । তাঁর কথা তো ওহী যা তাঁর প্রতি পাঠানো হয় । ১ কুরআন মজীদের বিভিন্ন জায়গায় বর্ণিত আছে, مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ

“যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য (স্বীকার) করে সে আল্লাহরই আনুগত্য (স্বীকার) করে।

হাদীস সংরক্ষণ ও প্রচার করা মুমিনের একটি পবিত্র দায়িত্ব । নবী করীম ইরশাদ করেন, 

‘আমার নিকট হতে একটি কথা হলেও মানুষের নিকট পৌছিয়ে দাও ।"

অন্য জায়গায় বলেন, এখানকার উপস্থিত লোকেরা যেন অনুপস্থিত লোকদের কাছে আমার বাণী পৌঁছিয়ে দেয় ।

তিনি আরও বলেন,

مَنْ حَفِظَ عَلَى أُمَّتِي أَرْبَعِينَ حَدِيثًا مِّنْ أَمْرِ دِيْنِهَ بَعَثَهُ اللَّهُ

فَقِيْهَا، وَكُنْتُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَافِعًا وَشَهِيدًا».

“যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য দীন সম্পর্কিত চল্লিশটি হাদীস সংরক্ষণ করবে আল্লাহ তা'আলা তাকে ফকীহ (ধর্মীয় বিষয়ে বিশেষজ্ঞ) করে ওঠাবেন এবং কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য সুপারিশ করব ও সাক্ষী হব।” এই পুস্তিকায় সংকলিত চল্লিশটি হাদীস অধ্যয়নের বিনিময়ে কিয়ামতের দিন আল্লাহর রাসূল স যদি কোন উম্মতের জন্য সাক্ষী ও সুপারিশকারী হন তারচেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কি হতে পারে।