ইসলামে হারাম স্ত্রী ও সন্তান কারা?

প্রত্যেক মুসলিম পুরুষের জন্যে নিম্নলিখিত মহিলাদের বিয়ে করা সম্পূর্ণ হারাম।

ইসলামে হারাম স্ত্রী ও সন্তান কারা?

ইসলামে হারাম স্ত্রী ও সন্তান কারা?

১. পিতার স্ত্রী-পিতার তালাক দেয়া স্ত্রী হোক কিংবা রেখে মরে গিয়ে থাক, উভয় অবস্থায় একই বিধান। ইসলামের পূর্ব জাহিলিয়াতের যুগে পিতার স্ত্রী বিয়ে করার প্রচলন ছিল। ইসলাম তাকে হারাম ঘোষণা করেছে। কেননা পিতার স্ত্রী তো মা সমতুল্য, পিতার সাথে তার একবার বিয়ে হয়ে যাওয়াই এ হারাম হওয়ার জন্যে যথেষ্ট। কেননা সন্তানের কাছে পিতার মর্যাদা অনেক বড় ও সম্ভ্রমপূর্ণ। পুত্রের জন্যে পিতার স্ত্রী চিরতরে হারাম হওয়ার কারণে তার প্রতি সন্তানের লোভ ও লালসা করাও চূড়ান্তভাবে হারাম হয়ে গেছে। ফলে পুত্র ও পিতার স্ত্রীর মধ্যে সম্মান ও মর্যাদার সম্পর্ক চিরদিনের জন্যে স্থায়ী ও অবিচল-অপরিবর্তিত হয়ে থাকল।

২. মা-গর্ভধারিণী, দাদী-নানীও অনুরূপভাবে হারাম।

৩. কন্যা-পুত্রের কন্যা ও মেয়ের কন্যাও এর মধ্যে শামিল, এভাবে এ তালিকা যতই লম্বা হোক না কেন।

৪. ভগ্নি-আপন হোক কিংবা মার দিক দিয়ে অথবা পিতার দিক দিয়েই হোক।

৫. ফুফু-পিতার বোন, আপন হোক কিংবা অন্য যে রকমই হোক।

৬. খালা-মা'র বোন।

৭. ভাইয়ের কন্যা।

৮. বোনের কন্যা।

৯. দুগ্ধ সেবনের কারণে(দুদ-মা) বিয়ে হারাম।

১০. দুধ-বোন বিয়ে করাও হারাম।

১১. স্ত্রীর মা-অর্থাৎ শাশুড়ী। তাকে বিয়ে করাও হারাম।

১২. পালিতা কন্যা-অর্থাৎ যে স্ত্রীর সাথে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক কার্যকর হয়েছে, তার কন্যা স্বামীর জন্যে হারাম।

১৩. স্বীয় ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী।

১৪. দুই বোনকে একসঙ্গে স্ত্রীরূপে গ্রহণ হারাম।

১৫. যেসব মেয়ে কোন পুরুষের স্ত্রী হয়ে আছে এই অবস্থায় অপর কোন স্বামী গ্রহণ করা তাদের জন্যে সম্পূর্ণ হারাম।

১৬. মুশরিক নারী বিয়ে করাও হারাম। আর মুশরিক নারী তারা যারা মূর্তি পূজা করে। প্রাচীন আরব ও ভারতীয় হিন্দু মুশরিকগণ এ পর্যায়ে গণ্য।

১৭. মুসলিম নারীকে অমুসলিম পুরুষের কাছে বিয়ে দেয়া সম্পূর্ণ রূপে হারাম, সে অমুসলিম আহলি কিতাব হোক কি অন্য কেউ।

১৮. সাময়িক বিয়ে হারাম।

১৯. তালাকের কসম খাওয়া হারাম।

২০. স্ত্রীকে জ্বালাতন করা হারাম।

২১. নিজ সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করা হারাম।

২২. পালক পুত্র গ্রহণ হারাম।

২৩. কৃত্রিম উপায় গর্ভ সৃষ্টি হারাম।

২৪. প্রকৃত পিতা ছাড়া অন্য কাউকে পিতা বলা হারাম।

২৫. সন্তান হত্যা করো হারাম।


ইসলামে এ সব মহিলাদের 'মাহারিম' বা 'মুহাররমাত' বলে অভিহিত করা হয়েছে। কেননা মুসলিম ব্যক্তির জন্যে এরা চিরকালের তরে হারাম। কোন সময় এবং কোন অবস্থাতেই তারা হালাল নয়, এদের বিয়ে করা জায়েয নয়। এ সম্পর্কের দিক দিয়ে পুরুষটিকেও 'মুহাররম' বলা হয়।