হারাম কত প্রকার ও কি কি? পর্ব - ২

হারাম দ্রব্য সম্বলিত ঔষধ

চিকিৎসার্থে ব্যবহার করার অনুমতি কতিপয় শর্তের ওপর ভিত্তিশীল। শর্তগুলো হচ্ছেঃ

১. সে ঔষধটি ব্যবহার করা না হলে স্বাস্থ্যের ওপর প্রকৃতই কোন বিপদ ঘনিয়ে আসতে পারে বলে নিশ্চিতভাবে বিবেচিত হতে হবে।

২. সে ঔষধটি ছাড়া তার স্থলাভিষিক্ত বা বিকল্প হতে পারে হালাল দ্রব্য সম্বলিত এমন কোন ঔষধ পাওয়াই যায় না-এমন অবস্থা হতে হবে।

৩. এ বিষয়ে আল্লাহ্‌ বিশ্বাসী মুসলিম চিকিৎসকের কাছ থেকে সুস্পষ্ট অনুমোদন পেতে হবে।


সহীহ্ ইসলাম শিক্ষা - হারাম এর প্রকারভেদ পর্ব-২

সহীহ্ ইসলাম শিক্ষা - হারাম এর প্রকারভেদ পর্ব-২

পুরুষদের জন্যে দুই ধরনের সৌন্দর্যের জিনিস হারাম করা হয়েছে, যদিও তা মাহিলাদের জন্যে সম্পূর্ণ হালাল করা হয়েছে :

  • প্রথম, স্বর্ণালংকার ব্যবহার।
  • দ্বিতীয়, খাঁটি রেশমী বস্ত্র পরিধান।

নারী ও পুরুষের মাঝে সাদৃশ্য সৃষ্টি

নবী করীম (সা) ঘোষণা করেছেন, নারীর জন্যে পুরুষালী পোশাক পরিধান করা এবং পুরুষদের জন্যে নারীসুলভ পোশাক পরা সম্পূর্ণ হারাম। (আহমদ, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনে মাজা, ইবনে হাবান)

উপরন্তু তিনি পুরুষের সাথে নারীর এবং নারীর সাথে পুরুষের সাদৃশ্যকারীদের ওপর অভিশাপ করেছেন। (বুখারী)

ভ্রূ সরুকরণ

মাত্রাতিরিক্ত রূপ ও সৌন্দর্য অর্জনের আর একট আধুনিক উপায় হচ্ছে, চুল বা পশম উপড়ান। আর তা সাধারণত, কপালের ভ্রূ চুল উপড়িয়ে ভ্রূকে যথাসম্ভব সরু করা। কিন্তু এ কাজটি ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম। রাসূলে করীম (সা) এ কাজ যে করে, তার উপর অভিশাপ বর্ষণ করেছেন। হাদীসে উদ্ধৃত হয়েছে। (আরবী*********)

যে স্ত্রীলোক চুল বা পশম উপড়ায় এবং যে অপরের দ্বারা একাজ করায় রাসূলে করীম (সা) উভয়ের ওপর অভিশাপ বর্ষন করেছেন। (আবূ দাউদ)

চুলে জোড়া লাগান

স্ত্রীলোকের পক্ষে নিজের মাথার চুলের সঙ্গে অপরের চুলের (পরচুলা) জোড়া লাগিয়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করাও হারাম। তা আসল চুল হোক, কি নকল চুল।

ইমাম বুখারী হযরত আয়েশা, আসমা, ইবনে মাসউদ, ইবনে উমর ও আবূ হুরায়রা (রা) সূত্রে হাদীস উদ্ধৃত করেছেনঃ( আরবী*****১৩১*****)

চুলে যে জোড়া লাগায় এবং যে অন্যদের দ্বারা একাজ করায়- উভয় নারীর ওপর রাসূলে করীম (সা) অভিশাপ বর্ষণ করেছেন।


দাড়ি বাড়ানো-লম্বাকরণ

আমদের আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে গণ্য একটি ব্যাপার হচ্ছে দাড়ি বৃদ্ধিকরণ। হযরত ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা) বলেছেনঃ (আরবী**********************)

তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা কর এবং দাড়ি বাড়াও, আর গোফঁ কাট। (বুখারী)

ইসলামে প্রতিকৃতি হারাম

মুসরমানদের ঘর-বাড়িতে জীবের প্রতিকৃতি (Sculpture) সংরক্ষণকে ইসলাম হারাম করে দিয়েছে। সম্মানিত ব্যক্তিদের ছবি বা প্রতিকৃতিও এর অন্তর্ভুক্ত। এসব জিনিস কারো ঘরে থাকলে সেখান থেকে আল্লাহর রহমতের ফেরেশতা পালিয়ে যায়। রাসূলে করীম (সা) ইরশাদ করেছেনঃ (আরবি****************)

যে ঘরে ছবি বা প্রতিকৃতি অবস্থিত, সেখানে আল্লাহর রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না।

কুকুর লালন-পালন হারাম

মুসলমানের ঘরে কুকুর স্থান পেলে আশংকা হয়, তা খাবার, পাত্র ইত্যাদি চেটে নাপাক করে দিতে পারে। নবী করীম (স) বলেছেনঃ (আরবী**********************)

কুকুর কারো পাত্রে মুখ দিলে সেটাতে সাতবার ধুতে হবে- একবার অবশ্যই মাটি দিয়ে মাজতে হবে।

কর্মক্ষম ব্যক্তির নিষ্কর্মা বসে থাকা হারাম

কোন মুসলমান ইবাদত-বন্দেগীতে নিমগ্ন হওয়ার বা আল্লাহর ওপর নির্ভরতার নাম করে রিযক উপার্জন থেকে বিরত বা বেপরোয়া হয়ে থাকবে তা কিছুতেই হতে পারে না। কেননা আকাশ থেকে স্বর্ণ রৌপ্যের বর্ষণ হবার নয়।

হারাম কৃষিকার্য

ইসলাম যে সব উদ্ভিদ খাওয়া  হারাম হারাম ঘোষণা করেছে কিংবা যার ব্যবহার ক্ষতিকর, তার চাষাবাদও হারাম। যেমন গাজাঁ, আফিম ইত্যাদি।

সুদভিত্তিক ব্যাবসা/কাজ হারাম

সুদভিত্তিক বেচা-কেনার কাজ কর ও গরু-মহিষের লেজুর ধরেই পড়ে থাক, জিহাদে মনোযোগ না দিয়ে কৃষিকার্য়য মগ্ন হয়ে থাক,  তাহলে আল্লাহ তোমাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেবেন। পরে তা দূর করা যাবে না  যতক্ষণ না তোমারা তোমাদের দ্বীনের প্রতি প্রত্যাবর্তন করবে ।  (আবূ দাউদ)

বেশ্যাবৃত্তি হারাম

বেশ্যাবৃত্তি করতে বাধ্য করনা- ওরা তো পবিত্রতা ও সতীত্ব রক্ষা করে থাকতে চায়-শুধু এজন্যে যে,  এরা মাধ্যমে তোমরা বৈষয়িক স্বার্থ লাভ করবে।  (সূরা আন-নূরঃ৩৩)

নৃত্য ও যৌন শিল্পকর্ম

ইসলাম যৌন উত্তেজক নৃত্য পেশা হিসেবে গ্রহণ করা আদৌ সমর্থন করে না। অনুরূপভাবে এমন কাজেও ইসলামে অনুমোদন নেই, যা মন-মেজাজে যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি করে। অশ্লীল গান, নির্লজ্জ অভিনয় এবং এ ধরনের অন্যান্য অর্থহীন কাজকর্ম এ পর্যায়ে পড়ে।

হারাম চাকরি

চাকরি করা জায়েয পর্যায়ে আমরা এ পর্যন্ত যা কিছু বললাম, তা কেবল সেসব চাকরির বেলায় যখন সে চাকরির কাজে মুসলিম জনগণের পক্ষে ক্ষতির কারণ নিহিত থাকবে না।

জ্বেনা করা হারাম

আমরা যখন দেখি, সমস্ত আসমানী দ্বীনই ঐক্যবদ্ধভাবে জ্বেনা-ব্যভিচারকে সম্পূর্ণরূপে হারাম করে দিয়েছে, তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষিত হয়েছে তখন আমাদের মনে এক বিন্দু বিস্ময়ের উদ্রেক হয় না। ইসলাম হচ্ছে আসমান থেকে অবতীর্ণ সর্বশেষ দ্বীন। এ ব্যাপারে তা খুব বেশি কঠোরতা অবলম্বন করেছে, নিষেধ করেছে, হারাম ঘোষণা করেছে এবং বংশ সংমিশ্রিত হওয়ার, বংশ বিনষ্ট হওয়ার, পারিবারিক ভাঙন ও বিপর্যয় সূচিত হওয়ার, পারস্পরিক শুভ সম্পর্ক বিনষ্ট হওয়ার, সংক্রামক ব্যধির প্রবাল্য সৃষ্টি হওয়ার, লালসার তীব্রতা বৃদ্ধির ও চরিত্র ধ্বংস হওয়ার সমস্ত কারণ সম্পর্কে বিশেষ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছে। এ জন্যেই আল্লাহ্ তা'আলা শুধু জ্বেনা নিষেধ করেই ক্ষান্ত হন নি, তিনি বলেছেনঃ (আরবী****************)

তোমরা জ্বেনার কাছেও যাবে না। কেননা তা অতন্ত নির্লজ্জতার কাজ এবং খুবই খারাপ পথ। (সূরা বনী ইসরাঈলঃ ৩২)

  • ভিন মেয়েলোকের সাথে নিভৃতে সাক্ষাৎ হারাম
  • বিপরীত লিঙ্গের প্রতি লালসার দৃষ্টিতে তাকান হারাম