ঋণ পরিশোধের দোয়া
বর্ণিত আছে, নিম্নের দোয়া রীতিমত পাঠ করলে, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষ পরিশোধ হওয়ার ব্যবস্থা আল্লাহ তাআলা করে দেবেন এবং সকল দুশ্চিন্তা দূর করে নিশ্চিন্ত করে দেবেন।
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল ছনি : ওয়া আউযুবিকা মিনাল 'আজমি ওয়াল কাসালি, ওয়া আ'উযুবিকা মিন গালাবাতিদ দাইনি ওয়া কাহরির রিজা-न।
অর্থ : হে আল্লাহ্! আমি সর্ব প্রকার দুশ্চিন্তা ও পেরেশানী হতে তোমার আশ্রয় চাচ্ছি; এবং অক্ষমতা ও অলসতা হতে তোমার আশ্রয় চাচ্ছি; এবং কাপুরুষতা ও বখিলী হতে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি এবং ঋণের বোঝা ও মানুষের অত্যাচার হতে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। (এ হতে আমাকে রক্ষা কর)
বিপদ মুক্তির দোয়া
প্রকাশ থাকে যে, নিম্নোল্লিখিত দোয়া যে ব্যক্তি সন্ধ্যাবেলা পাঠ করবে, তার পরে নিম্নের দোয়াটিও পাঠ করবে। তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা পাঠকারীর সমস্ত বিপদাপদ দূর করে দেবেন।
উচ্চারণ ঃ আসাইনা- ওয়া আসাল মুলকু লিল্লা-হি, ওয়াল হাম্দু লিল্লা-হি ; আ'ঊযু বিল্লা-হিল্লাযী ইয়ুসিকুস্ সামা-য়া আন্ তাক্বা'আ 'আলাল আরদ্বি ইল্লা- বিইযনিহী মিন শাররি মা খালাকা ওয়া যারায়া ওয়া বারায়া।
অর্থঃ “আমরা ও আল্লাহর সমগ্র সৃষ্টি জগত (আল্লাহর এবাদত-বন্দেগীর জন্য) সন্ধ্যা করেছি এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমি আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করছি- যিনি তাঁর অনুমতি ব্যতীত আসমানকে যমীনের উপর পতিত ইচ্ছা হতে বিরত রেখেছেন; এমনি সমস্ত বস্তুর অনিষ্ট হতে আশ্রয় গ্রহণ)
![]() |
| জীবনে চলার পথে জরুরী দোয়া |
প্রয়োজন মিটাবার দোয়া
বর্ণিত আছে, একদা রাসূলুল্লাহ (ছঃ) হযরত সালমান (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেন, হে সালমান! দিন রাতে যখনই সুযোগ পাবে, তখন এ দোয়াটি অবশ্যই পাঠ করবে এবং নিজের প্রয়োজনের জন্য আল্লাহ্ তা'আলার দরবারে দোয়া প্রার্থনা করলে তিনি তা মিটিয়ে দেবেন।
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসয়ালুকা ছিহাতান ফী-ঈমানিন্। ওয়া ঈমা-মান কীহুসনি খুলুদিওঁ ওয়া নাজাতাই ইয়াবা উহা ফালা-হুন। ওয়া রহমাতাম্ মিন্কা ওয়া 'আ-ফিয়াতান্ ওয়া মাগফিরাতান ওয়া মাগফিরাতাম মিন্কা ওয়া রিয়া-নান্ ।
শয়নকালের দোয়া
হাদীসে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (ছঃ) বলেছেন— শয়নের পূর্বে ওযু না থাকলে ওযূ করতঃ শয়ন করবে। শোয়ার পূর্বে যে কোন কাপড় দ্বারা বিছানা তিনবার ঝেড়ে নেবে । অতঃপর নিম্নের দোয়া পাঠ করে বিছানায় শয়ন করবে।
উচ্চারণ: লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহূ লা-শারীকা লাহূ। লাহুল মুল্কু ওয়া লাহুল হাম্দু ওয়া হুওয়া 'আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর। লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা- বিল্লা-হি। সুব্হানাল্লা-হি ওয়াল্ হাম্দু লিল্লা-হি ওয়া লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লা-হু আকবার ।
শয়নের পূর্বে ইস্তিগফার
রাতেরবেলা শয়নের পূর্বে এ ইস্তিগফার তিনবার পড়ে শয়ন করবে।
উচ্চারণ ঃ আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা-ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যূমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।
অর্থ : “আমি আল্লাহু তা'আলার দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করছি যিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই ; যিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী এবং আমি তার নিকট তওবা করতেছি।
ঈমানের সাথে মৃত্যু হওয়ার দোয়া
উচ্চারণ ঃ বিসমিল্লা-হি, আল্লা-হুম্মা আসলামতু নাফ্সী ইলাইকা ওয়া ওয়াজজাহতু ওয়াহী ইলাইকা ওয়া ফাওয়াদতু আমরী ইলাইকা। ওয়া আলাজা'তু জাহরী ইলাইকা রগাবাতান ওয়া রাহবাতীন ইলাইকা। লা-মাল্জা--য়া ওয়া লা- মান্জা -- য়া মিনকা ইল্লা- ইলাইকা। আ-মানতু বিকিতা- বিকাল্লাযী আন্যালতা ওয়া নাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালতা।
উত্তম স্বপ্ন দেখে আল্লাহর শোকর আদায় করবে হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ্ (ছঃ) বলেছেন – যদি কোন ব্যক্তি নিদ্রার মধ্যে ভাল স্বপ্ন দেখে, তবে তার জন্য আল্লাহ তা'আলার শোকর গুজারী করবে এবং উক্ত স্বপ্ন হিতাকাংখী বন্ধুর নিকট বলবে। অন্য কারো। নিকট বলবে না। (যেহেতু স্বপ্ন শুনে হয়তো সে খারাপ তাবীর করবে ; কেন না প্রথম তাবীর অনুযায়ী স্বপ্ন বাস্তব রূপ লাভ করে থাকে।)
দুঃস্বপ্ন দেখে পড়ার দোয়া
বর্ণিত আছে, যারাপ স্বপ্ন দেখে বাম পার্শে তিনবার থু থু ফেলবে এবং যে পার্শে শোয়া ছিলে ঐ পার্শ পরিবর্তন করে তবে আর এ দোয়া তিনবার পাঠ করবে এবং কারো নিকট বলবে না।
উচ্চারণ ঃ আউযুবিল্লা-হি মিনাশশাইত্বোয়া-নির রাজীমি ওয়া শাররি হা-যিহির রুইয়া-।
দুঃস্বপ্ন দেখে ভয় পেলে যে দোয়া পড়তে হয়
হাদীসে বর্ণিত আছে, হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আ'স (রাঃ) এর অভ্যাস ছিল তিনি নিম্নের দোয়াটি তাঁর বয়স্ক সন্তানদেরকে শিখাতেন এবং নাবালেগ সন্তানদের জন্য এ দোয়া লিখে গলায় বেধে দিতেন।
উচ্চারণ: আউযু বিকালিমাতিল্লা-হিত্ তা-ম্মাঁতি মিন্ গাদাবিহী ওয়া “ইকা-বিহী ওয়া শাররি ‘ইবাদিহী — ওয়ামিন্ হামাযাতিশ্ শাইয়া-জ্বীনি ওয়া আইয়্যাহ্দুরূন।
নিদ্রা হতে জাগ্রত হয়ে পড়ার দোয়া
উচ্চারণ : আল্হামদু লিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়া-না- বা'দা মা- আমা-তানা- ওয়া ইলাইহিন নুশুর।
ফরয নামাযের পর পড়ার দোয়া
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ওয়াক্তে ফরয নামাযের পরে (সুবহা-নাল্লা-হ) ৩৩ বার, (আলহামদুলিল্লা-হ) ৩৩ বার এবং (আল্লা-হু আকবার) ৩৪ বার পাঠ করবে এবং নিম্নের দোয়া একবার পাঠ করবে, তার সমস্ত পাপ মাপ করে দেয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার পরিমাণ হয়ে থাকে।
উচ্চারণ ও লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদার লা-শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া 'আলা কুল্লি শাইয়িন স্বাদীর। (এ দোয়াটি মাগরিব নামাযের পরেও পড়া যায়)
অন্য এক হাদীসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি iii (সুবহানাল্লা-হি) তাসবীহ ১০০ বার এবং iii (আল্লাহু আকবার) তাকবরী ১০০ বার এবং g (লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু) তাহলীল ১০০ বার এবং <li saaji (আলহামদু লিল্লাহি) তাহমীদ ১০০ বার পাঠ করবে, তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে যদিও তা সমূদ্রের ফেনার ন্যায় অসংখ্য হয়ে থাকে।
সফরে যানবাহন হারিয়ে গেলে পরীক্ষিত আ'মল
যদি সফর অবস্থায় যানবাহন হারিয়ে যায়, তবে এ দোয়া উচ্চঃ শব্দে পাঠ করতে থাকবে, ইনশাআল্লাহ হারানো যানবাহন ফিরে পাবে। এটা পরীক্ষিত আমল।
উচ্চারণ: আ'ঈন্ ইয়া- 'ইবাদাল্লা-হি রাহমাকুমুল্লা-হু।
গৃহে প্রবেশকালে পড়ার দোয়া
উচ্চারণ ঃ তাওবা, তাওবান্, লিরব্বিনা- আওবান্, লা-ইয়ুগা-দিরু *আলাইনা- হাওবা ।
দুশ্চিন্তা ও পেরেশানীর সময় এ দোয়া পড়বে
বর্ণিত আছে, ইব্নে আবী আ’সেম তার লিখিত “কিতাবুদ্দোয়া” নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এ দোয়া পড়লে পেরেশানী ও দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যায়।
উচ্চারণ: লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হুল হালীমুল কারীমু । সুবহা-নাল্লা-হি রব্বিস্স্সামা- ওয়া-তিস্ সাব্ ওয়া রব্বিল্ 'আরশিল আযীম। আল্হাম্দু লিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামীন। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন শাররি “ইবাদি।”
