কোরআন ও হাদীসের গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত বাণী

১. তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর, আর তোমাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করনা। [সূরা মুহাম্মাদ-৩৩] 

২. রাসূল তোমাদেরকে যা দেয় তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা হতে তোমাদেরকে নিষেধ করে তা হতে বিরত থাক এবং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ শাস্তি দানে কঠোর। [সূরা হাশর-৭]

৩. আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোন নির্দেশ দিলে কোন মুমিন পুরুষ ও মু'মিনা নারী উক্ত নির্দেশের ভিন্নতা করার কোন অধিকার রাখেনা। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করে সে তো সুস্পষ্ট পথভ্রষ্ট। [সূরা আহযাব-৩৬] 

৪. যে আমলটি নির্দিষ্ট সময়ে পালন করতে নির্দেশ থাকে, ওটা সেই সময়ে অগ্রাধিকার দিয়ে পালন করতে হয়। অন্যথায় নির্দিষ্ট সময়ে পালনীয় আমল বর্ণিত আয়াত ও হাদীসের বিরোধী হবে। [সূরা নিসা ৯৫, ১০২, ১00]

কোরান-হাদীস এর মূল বাণী
৫. দু'টি বৈধ পন্থার মধ্যে যেটি শ্রেষ্ঠ বা অতি উত্তম, সেই আমলটি করাই ইসলামের দাবী। [সূরা যুমার-১৮]

৬. মতভেদের ক্ষেত্রে নিজের মতকে অগ্রাধিকার দেয়ার চেয়ে, সেই কাজটি কুরআন ও সহীহ হাদীসের সাথে মিলিয়ে নেয়াই উত্তম ও পরিনামেও উৎকৃষ্টতর। (সূরা নিসা-৫৯)

৭. কুরআন ও সুন্নাহ, উভয়টিই অহী বা আল্লাহর হুকুম। উভয় অহীর আনুগত্য করা বান্দার উপর ফরয। অহী অমান্য করা কৃষ্ণরী। [সূরা আ'রাফ- ১৫৭, নিসা-১১৩, ১৬৩]

৮. নিজেদের খেয়াল খুশির অনুসরণ, যা কুরআন ও সুন্নাহর সাথে মিল নেই, তা বর্জন করতেই হবে এবং বর্তন না করলে ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হবে। [সূরা বাকারা-১৪৫, ১৭০, নিসা-১১৫]

৯. রাসূল (সাঃ) বলেছেন : ইয়াহুদী জাতি একাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, তন্মধ্যে সত্তরটি দল জাহান্নামী এবং একটি দল জান্নাতী। আর খৃস্টান জাতি বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল, তাদের মধ্যে একাত্তর দল জাহান্নামী এবং একটি দল জান্নাতী। সেই মহান সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! অবশ্যই আমার উম্মাত তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে। অন্যধ্যে একটি দল হবে জান্নাতী এবং বাহাত্তরটি দল হবে জাহান্নামী। জানতে চাওয়া হল, হে আল্লাহর রাসূল! কোন্ দলটি জান্নাতী? তিনি বললেন তারা ঐ জামা'আতভুক্ত, যারা আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাতের অনুসারী হবে। [ আবু দাউদ/৪৫২৬, ইবন মাজাহ/৩৯৯২, তিরমিযী /২৬42] 

১০. যারা মুহাম্মাদের (সাঃ) অনুসরণ করল তারা আল্লাহর আনুগত্য করল। আর যারা মুহাম্মাদের (সাঃ) অবাধ্যতা করল তারা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহরই অবাধ্যতা করল। মুহাম্মাদ (সাঃ) হলেন মানুষের মাঝে পার্থক্যের মানদন্ড । [বুখারী/৬৭৭১] 

১১. রাসূল (সাঃ) বলেছেন : আমি তোমাদের মাঝে দু' টি বস্তু রেখে যাচ্ছি। যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা সেই বস্তু দুইটি আঁকড়ে ধরে থাকবে, তোমরা পথভ্রষ্ট হবেনা। একটি হল আল্লাহর কিতাব, অপরটি রাসূলের (সাঃ) সুন্নাত। [মুসলিম/২৮১৭, আবূ দাউদ/৪৫৩৩]

১২. রাসূল (সাঃ) বলেছেন : দলীল-প্রমাণ ব্যতীত কেহকে ফাতওয়া দেয়া হলে তার পাপের ভার ফাতওয়াদাতার উপর বর্তাবে। [ইবন মাজাহ 50]

১৩. রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের এ দীনের (ধর্মের) মধ্যে নতুন কিছুর সংযোজন করবে, যা এতে নেই, তা পরিত্যাজ্য  [মুসলিম/৪৩৪৩, আৰূ দাউদ/৪৫৫১, ইবন মাজাহ/১৪]

১৪.  রাসূল (সাঃ) বলেছেন : আমার কথা অন্যদের নিকট পৌঁছে দাও, তা যদি এক আয়াতের পরিমানও হয়। কিন্তু যে কেহ ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যা আরোপ করল সে যেন জাহান্নামেই তার ঠিকানা নির্ধারণ করে নিল। [বুখারী/৩২০৭]