আল্লাহ মানুষের কাজ দেখেন : আল্লাহর কাছে মানুষের কর্ম গ্রহণযোগ্য। মানুষের দৈহিক গঠন, অর্থ-সম্পদ কিংবা সৌন্দর্য বিবেচ্য নয়। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, "আল্লাহ তাআলা তোমাদের অবয়ব দেখেন না। তোমাদের আকার-আকৃতিও দেখেন না। তবে তিনি তোমাদরে অন্তর ও অনৈতিকতা ও পাপাচার পরিহারের নির্দেশ দিয়েছেন। আবু জর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) আমাকে বলেন, 'তুমি যেখানেই থাক আল্লাহকে ভয় করো। মন্দ কাজ করে ফেললে এরপর ভালো কাজ করো। তাহলে মন্দের কাজের গুনাহ মুছে দেবে। মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করো।' (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৮৭)
![]() |
| জান্নাত লাভের কাজ |
আল্লাহ মানুষের কাজ দেখেন : আল্লাহর কাছে মানুষের কর্ম গ্রহণযোগ্য। মানুষের দৈহিক গঠন, অর্থ-সম্পদ কিংবা সৌন্দর্য বিবেচ্য নয়। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, "আল্লাহ তাআলা তোমাদের অবয়ব দেখেন না। তোমাদের আকার-আকৃতিও দেখেন না। তবে তিনি তোমাদরে অন্তর ও কর্মগুলো দেখেন। ' (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ২৫৬৪)
অন্তরের পরিশুদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ : নৈতিকতাবোধ মানুষের সফলতার চাবিকাঠি। আর সামাজিক জীব হিসেবে অন্তরের পরিশুদ্ধি জরুরি। আর তাই পবিত্র কোরআনে এ ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, 'সেই সফলকাম যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করবে। এবং সেই ব্যর্থ যে নিজেকে কলুষিত করবে। ' (সুরা শামস, আয়াত : ৯-১০)
অপর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, 'সেই সফলকাম যে অন্তর পরিশুদ্ধ করল, তার রবের নাম স্মরণ করল। অতঃপর নামাজ আদায় করল।' (সুরা আলা, আয়াত : ১৪-১৫) আল্লাহ তাআলো অন্য আয়াতে বলেন, 'মহাকালের শপথ। মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু তারা নয় যারা ঈমান আনে, ভালো কাজ করে, পরষ্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়।' (সুরা আসর, আয়াত : ১-৩)
মহান আল্লাহ সবাইকে নৈতিকতা অর্জনের তাওফিক দান করুন
অন্যান্য
আল্লাহর জন্য নিজের জান বিক্রি করে দেয়। প্রত্যেক আলিম স্বীয় ইলম অনুযায়ী আমল করে ও অন্যকে শিক্ষা দেয়। এ কারণেই ঈমানদার ব্যক্তি সালাত ও অন্যান্য ফরযসমূহ আদায় করে, আর মানুষ তার ঈমানের সাক্ষ্য দেয়। সে আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলে। তার অন্তর দীন, মসজিদ এবং আল্লাহর প্রতিদানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়ে থাকে। তবে হ্যাঁ, এ জান্নাত পাওয়ার কতিপয় কারণ রয়েছে। আর প্রত্যেকে একটি উপায় অবলম্বন করবে যাতে সে জান্নাতের যে কোনো একটি দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারে। সুতরাং কোনো মুমিন তার সালাতের কারণে জান্নাতে যাবে, কেউবা সাওম বা যাকাত বা হজ কিংবা উত্তম চরিত্র, কেনা-বেচা ও জিহাদের কারণে জান্নাতে যাবে। বরং আল্লাহর রহমাত ও অনুগ্রহ এত প্রশস্ত যে, কোনো কোনো বান্দাকে তিনি জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাত দান করবেন শুধু এ কারণে যে, সে ব্যক্তি দুনিয়াতে রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দিয়ে মানুষকে কষ্টমুক্ত করেছে, তৃষ্ণার্ত প্রাণীকে পানি পান করিয়েছে এবং বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছে।
সুতরাং জান্নাতে প্রবেশের উপায় যদি চয়ন করতে চান, তাহলে কুরআনের আয়াত ও হাদীসের সুললিত ও সুরভিত বাণী আপনার সমীপে পেশ করা হচ্ছে। সাধ্যানুযায়ী উপায় আপনি চয়ন করুন। হতে পারে এ কারণে আপনি একাধিক দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ লাভ করতে পারবেন। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে এমন সুসংবাদ প্রদান করেছিলেন।
জান্নাত লাভের উপায়সমূহ:
৪. জান্নাতে প্রবেশের প্রথম উপায় হলো: শাহাদাত অর্থাৎ একথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর সত্য কোনো ইলাহ নেই, যিনি একক, যার কোনো শরীক নেই। আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 12:16
অন্যান্য
'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন,
"যে ব্যক্তি এ কথার সাক্ষ্য দিবে যে, 'এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ছাড়া আর কোনো প্রকৃত ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল, ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং আল্লাহর কালেমা যাকে তিনি মারইয়ামের নিকট প্রেরণ করেছেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে রূহ, আর জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য' আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তার আমল যাই হোক না কেন"।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
“নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর এ কথার উপর সুদৃঢ় থাকে। তাদের কোনো ভয় ভীতি নেই, তাদের কোনো চিন্তা নেই। তারাই জান্নাতবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এ জান্নাত তারা তাদের কৃত কর্মের ফল স্বরূপ লাভ করবে। [সূরা আল-আহক্বাফ, আয়াত: ১৩-১৪]
আয়াতে উল্লিখিত żoll শব্দটির অর্থ হলো: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
অন্যান্য
“জান্নাত পেতে আগ্রহী নয় এমন ব্যক্তি ছাড়া আমার সকল উম্মাতই জান্নাতে প্রবেশ করবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কে এমন ব্যক্তি আছে যে জান্নাতে যেতে অস্বীকৃতি জানায়? নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করবে সে জান্নাতে যাবে, আর যে আমার নাফরমানী করবে ও অবাধ্য হবে, সেই জান্নাতে যেতে অস্বীকার করে”।[2]
২. আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নামসমূহ মুখস্থ করা এবং নামগুলো সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা জান্নাতে প্রবেশের একটি উপায়। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহ আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন
“আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম আছে। যে ব্যক্তি এ নামগুলো গণনা করবে, সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে”।[3]
৩. আল কুরআনের অনুসারীগণ, যারা আল্লাহর আহল ও তাঁর খাস বান্দা, কুরআন তাদের জান্নাতে প্রবেশের উপায় হবে। আবদুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
يقال لصاحب القرآن اقرأ وارتق ورتل كما كنت ترتل في الدنيا، فإن منزلتك عند آخر آية تقرأ بها». “আল-কুরআনের সঙ্গীকে বলা হবে: কুরআন পাঠ কর, আর মর্যাদার উচ্চ শিখরে আরোহণ কর। আর তিলাওয়াত করতে থাক। যেমন, দুনিয়াতে তিলাওয়াত করছিলে। কেননা তোমার মর্যাদা হলো কুরআনের শেষ আয়াত পর্যন্ত যা তুমি পাঠ করবে”।
অন্যান্য
যে দুই কারণে মানুষ বেশি জান্নাত ও জাহান্নামে যাবে যে দুই কারণে মানুষ বেশি জান্নাত ও জাহান্নামে যাবে :
আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, মানুষকে সবচেয়ে বেশি জান্নাতে নেবে এমন কিছু সম্পর্কে রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়। তিনি বলেন, 'আল্লাহর ভয় ও সুন্দর চরিত্র।' অতঃপর মানুষকে যা জাহান্নামে বেশি নেবে এমন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। তিনি বলেন, 'মুখ ও লজ্জাস্থান।' (তিরমিজি, হাদিস : ২০০৪)
- নৈতিকতা মানুষের অভ্যন্তরীণ গুণ। মানুষের বাহ্যিক কথাবার্তা,
- আচার-ব্যবহার, আলাপচারিতা, লেনদেন সর্বোপরি পুরো
- দৈনন্দিন জীবনযাপনে নৈতিকতার প্রভাব ফুটে ওঠে। আখলাক
- এর আরবি প্রতিশব্দ। বিখ্যাত আরবি ভাষাবিদ আল্লামা
- আবদুল কাহির আল জুরজানি এর পরিচিতিতে বলেন, 'অন্তরের
- প্রতিক্রিয়া যা বাহ্যিক আচার-ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো ধরনের
- চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রকাশ পায়৷
তার কর্ম ভালো হলে তা উত্তম চরিত্র বলে গণ্য হবে। আর কর্ম মন্দ হলে তা মন্দ চরিত্র হিসেবে গণ্য হবে। (আত তারিফাত, পৃষ্ঠা :
নৈতিকতার মাপকাঠি : পবিত্র কোরআনের অসংখ্য আয়াতে নৈতিকতার মূল কথা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়দের দানের নির্দেশ দেন এবং অশ্লীলতা, অসৎ কাজ ও অবাধ্যতা থেকে নিষেধ করেছেন, তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।' (সুরা : নাহাল, আয়াত : ৯০)
মহানবী (সা.)-এর চরিত্রের নমুনা : মহানবী (সা.) ছিলেন উত্তম চরিত্রের সব গুণাবলির আধার। তাঁর সব গুণে মুগ্ধ ছিলেন
