![]() |
| মহিলাদের মুক্তির পথ |
বিবাহের পরে, তার আগে যা কিছু তার দখলে ছিল তা সে রাখার জন্য স্বাধীন, এবং স্বামীর তার কোন জিনিসপত্রের উপর কোন অধিকার নেই। কন্যা বা বোন হিসাবে তিনি পিতার দ্বারা নিরাপত্তা ও বিধান পাওয়ার অধিকারী এবং ভাই যথাক্রমে। এটা তার বিশেষাধিকার।
পর্দায় থাকো, পর্দার সাথে চলো
পবিত্র কোরআনে কারীমে মহান রাব্বুল আলামীন নারীদের জন্য একটি আয়াত নিদর্শন হিসেবে পেশ করেছেন।
হে নারী! তুমি ঘরের বাইরে বের হও। আল্লাহ তা'আলাা নিষেধ করেননি। বলেননি যে মেয়েরা ঘর থেকে বের হতে পারবে না। কিন্তু বলেছেন, যদি বের হও, তাহলে এমনভাবে বের হও যেমনভাবে হযরত শোয়াইব (আ.)-এর কন্যাগণ বের হয়েছিলেন।
113.66 (ক্বাসাস-২৫) হযরত শোয়াইব (আ.)-এর কন্যা এলো, হযরত মূসা (আ.) কে বলার জন্য যে, আমার পিতা আপনাকে ডেকেছেন। যে মেয়েটি এসেছিলেন। ডাকার জন্য। পায়ে হেঁটে এসেছিলেন। তাঁর চলায় এমন লজ্জাশীলতার ছাপ ছিলো যে, মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে সে মেয়েটির লজ্জাব্রত চলা এতটাই পছন্দনীয় লাগল যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁকে কোরআনের অংশ বানিয়ে দিলেন। আর বললেন, তোমরা যদি লাজনম্র নারী দেখতে চাও তাহলে তাকে দেখ । লজ্জাশীলতার উজ্জল দৃষ্টান্ত ।
অতএব বের হবে হও; কিন্তু পর্দার সাথে। শালীনভাবে, লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে নয়।
দুনিয়াতে পর্দার সাথে থাকো, জান্নাতে আল্লাহ তা'আলা সমস্ত পর্দা উঠিয়ে দেবেন। তখন তুমি নারী জান্নাতী হুরের চেয়ে সত্তর হাজার গুণ বেশি রূপসী হয়ে যাবে। আল্লাহ্ তা'আলা এটা দান করবেন। সে রূপতো হবে চিরস্থায়ী। টেকসই, চির যুবতী, শরীর ভাঙ্গবেনা। চামড়া কুচকাবেনা। আল্লাহ তা'আলা এইরূপ বান্দার প্রতি খুশী হয়ে দান করবেন। মহান রাব্বুল আলামীনের সে উপহার, যার কোনো তুলনা হয় না।
জান্নাতে মুসলিম নারীর মর্যাদা
উম্মুল মু'মিনীন হযরত উম্মে সালমা (রাযি.) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে জানতে চাইলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! জান্নাতের হুর উত্তম না দুনিয়ার নারী উত্তম?
যেহেতু তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে মেশকে আম্বর দ্বারা। জাফরান দ্বারা।
আর দুনিয়ার নারীরা মাটি, পানি আর আগুনের তৈরি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উম্মে সালমা! দুনিয়ার ঈমানদার নারী জান্নাতের হুরদের চেয়ে উত্তম।
হযরত উম্মে সালমা জিজ্ঞসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম! কি কারণে তারা হুরদের চেয়ে উত্তম?
জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
আল্লাহ তা'আলার আনুগত্যের কারণে। আল্লাহ তাঁর নূর তাদের চেহারায় ঢেলে দেবেন। এরপর হুরদের চেয়ে দুনিয়ার ঈমানদার নারীর মর্যাদা বহু গুনে বৃদ্ধি পাবে। এরপর বেহেশতের হুরগণ দুনিয়ার ঈমানদ্বার নারীদের গায়ে রেশমী পোষাক পরিয়ে দিবে। হাতে বালা পরিয়ে দেওয়া হবে। স্বর্ণের চিরুনী দ্বারা চুল আচড়াবে। তাদের মাথার চুল পা পর্যন্ত লম্বা হবে, হুরগণ সে চুল ধরে জান্নাতী নারীর সাথে চলবে।
জান্নাতী নারীদের লেহেংগার আচল তিন মাইল পর্যন্ত লম্বা হবে। আমিতো একইথাটা পড়ার পর ভাবতে লাগলাম যে, তিন মাইল পর্যন্ত লম্বা যে পোষাক হবে এর ওজন কত হবে? এটা উঠাবে কিভাবে? ভাবতে ভাবতে এক সময় বুঝে আসলো যে জান্নাতী পোষাকতো আর সুতার তৈরি নয়, পলিষ্টার বা টরে কাপড় নয় যে ওজন হবে। বরং জান্নাতী পোশাক হবে নূরের, যে নূরের কোনো ওজন নেই। সেটা তিন মাইল হোক আর তিন শত মাইল হোক। কাপড়ের প্রতিটা জোড়ায় থাকবে বিভিন্ন রঙের সমাহার। প্রত্যেকটা রঙের ঝলক চেহারায় পড়বে, যার দরুন জান্নাতী নারীর চেহারার সৌন্দর্য ঝলক দিতে থাকবে। আল্লাহ তা'আলা এ সৌন্দর্য দেবেন উপহার হিসেবে।
আর স্বামীগণ তাদের স্ত্রীদের এমন রূপের ঝলক দেখে একনজরেই চল্লিশ বছর কাটিয়ে দিবে। এরপরও দেখার স্বাদ ফুরাবে না।
প্রিয় বোনেরা! এটাইতো হলো জিন্দেগী। চিরস্থায়ী বাসস্থান। তাই আজ পর্যন্ত যা করেছেন তা থেকে তওবা করুন। সেই জীবনের প্রস্তুতি নিন । এই সারা মজমা তওবা করবে। আমি তো সব বয়ানেই এ আবেদন করি।
বোনেরা! আমি আমার নজরে আপনাদের দেখছি না, এরপরও আপনারা আমার সামনে বসা। এখন সবাই বলেন, ইয়া আল্লাহ! মাফ করো। সমস্ত মাস্তুরাত । সবাই এক সাথে বলুন।
ইয়া আল্লাহ! আমরা আজ পর্যন্ত যত পাপ করেছি, তা থেকে তোমার দরবারে তওবা করছি। হে আল্লাহ! আমাদের তওবা কবুল করো। আমীন।
