এসো জান্নাত ও কল্যানের পথে

ফিরে এসো জান্নাতের পথে
 এসো জান্নাতের পথে
বর্তমানের কোন মানুষটি প্রতিযোগিতায় লিপ্ত নয়!? সবার মাঝে চলছে প্রতিযোগিতা! কারও মাঝে প্রতিযোগিতা চলছে প্রকাশ্যে ঘটা করে। যেমন : ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, গান প্রতিযোগিতা, নাচ প্রতিযোগিতা, এমনকি সুন্দরী প্রতিযোগিতার নামে নারীদেহকে নগ্ন করে উপস্থাপনের প্রতিযোগিতা! 

আর কেউ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত মঞ্চের বাইরে—যেখানে অবশ্য প্রতিযোগীদের মাঝে আনুষ্ঠানিক কোনো আয়োজন হয় না; বরং এ প্রতিযোগিতা চলে নীরবে—অন্যকে দেখে দেখে। এ প্রতিযোগিতা দুনিয়া উপার্জনের প্রতিযোগিতা : 
  • কীভাবে নিজের ক্যারিয়ার গঠন করা যায়? 
  • বড় কোনো পদ-পদবি পাওয়া যায়!? 
  • কীভাবে লাখপতি-কোটিপতি হওয়া যায়—গাড়ি-বাড়ির মালিক বনা যায়? 
  • সন্তানকে সেরা বানানো যায়?
  • লোভ, হিংসা ও অহংকার -এ পতিত হোয়া যায়?
হ্যাঁ, এমন অনেক অসুস্থ প্রতিযোগিতাই জেঁকে বসেছে আজকের অধিকাংশ মানুষের মন-মগজে। আমাদের মহান সালাফগণও প্রতিযোগিতা করতেন। কিন্তু কী ছিল তাঁদের প্রতিযোগিতা? কোন লক্ষ্যপানে তাঁরা ছুটে চলতেন? জানতে চাও? তাহলে তোমার দৃষ্টিকে নিবদ্ধ করো জান্নাতের পথে, কল্যানের পথে, অখেরাতের পথে, সত্যের পথে...

সচেতন মানুষ সদা আলোমাখা পথে হাঁটার চেষ্টা করে। যে পথ হবে নিখাঁদ-নির্ঝঞ্ঝাট। তারা পাপমুক্ত মসৃণ পথে চলার জন্য দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ। কিন্তু এ পথটা কণ্টকমুক্ত নয়। এ পথে আছে অনেক কাঁটা। প্রতিনিয়ত শয়তান আল্লাহর বান্দাদের অন্ধকারে ঘেরা তিমিরে ডুবিয়ে রাখতে নিবিড় ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত।

আজাজিল যখন শয়তানে রূপায়িত হলো তখন আল্লাহকে বলেছিল, ‘যেহেতু আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, সে কারণে অবশ্যই আমি তাদের (বান্দাদের) জন্য আপনার সরল পথে বসে থাকব। তারপর অবশ্যই আমি তাদের কাছে তাদের সামনে থেকে, তাদের পেছন থেকে, তাদের ডান দিক থেকে, তাদের বাম দিক থেকে উপস্থিত হব। আর আপনি তাদের অধিকাংশই কৃতজ্ঞ পাবেন না’ (সূরা আরাফ : আয়াত ১৪-১৭)।

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে শয়তানের ফাঁদে পড়ে হয়ে যায় ভুল কিংবা হয়ে যায় মহা-অপরাধ। কিন্তু আল্লাহ তো জানেন, শয়তানকে সৃষ্টি করা হয়েছে আদম (আ.)-এর সৃষ্টির বহুকাল আগে, তার সঙ্গে আমার বান্দারা পেরে উঠবে না। দৈনন্দিন পথচলায় ভুল হয়ে যাবেই। আল্লাহ যেহেতু পরম ভালোবাসা দিয়ে তার বান্দাদের সৃষ্টি করেছেন, তাই সে আল্লাহ কখনোই চান না তার বান্দারা ঘুটঘুটে অন্ধকারাচ্ছন্ন জাহান্নামের পথে চলুক।

সেজন্য আল্লাহ দিয়েছেন এক আশার বাণী। এক অনুপম ইশতেহার। যেখানে অন্ধকারে হাবুডুবু খাওয়া মানুষ পাবে আলোর মশাল নিয়ে সামনে এগোনোর প্রেরণা। পথহারা পথিক পাবে কাঙ্ক্ষিত পথ। পাপের অকূল পাথারে ডুবে থাকা ব্যক্তিটি পাবে জান্নাতের পথে চলার নিশানা, আর সেই নিশানার নাম তাওবা মানে ফিরে আসা।

গাঢ়-ঘন কালো অন্ধকার পথ ছেড়ে ঝলমলে রঙিন পথে চলার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া। সব হারাম কাজ ছেড়ে বৈধ পথে জীবন পরিচালনা করা। দুর্গন্ধময় পাপের গলি থেকে ইউটার্ন নিয়ে সুর্গন্ধময় রবের প্রশান্তিময় স্নিগ্ধ ইবাদতে মত্ত থাকা।

তাওবা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো অন্যায় কাজ করে বসে অথবা নিজের ওপর জুলুম করে অতঃপর আল্লাহর সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা করে। তবে সে আল্লাহকে অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু হিসাবে পাবে’ [সূরা নিসা-আয়াত ১১০]।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অন্য আয়াতে বলেন, ‘হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। তিনি ক্ষমাশীল। পরম দয়ালু’ (সূরা জুমা আয়াত : ৫৩)।

উপর্যুক্ত আয়াত থেকে বোঝা যায়, কারও গুনাহের পরিমাণ যদি প্রশান্ত মহাসাগরের নীল জল রাশির চেয়েও বেশি হয়, তাহলেও ভয় নেই। হতাশ হওয়ারও কিছু নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। শুধু পূর্বেকৃত পাপ থেকে তাওবা করতে হবে অনুতপ্ত হয়ে।

‘হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আদম সন্তানের সবাই অপরাধী। আর এ অপরাধীদের মধ্যে উত্তম তারাই যারা তাওবা করে’ (তিরমিজি ২৫০১)।

পেন্সিলের কালি যেমন রাবার ব্যবহারে মুছে ফেলা যায় নিমিষেই, তাওবা এমন এক রাবার যার মাধ্যমে পাপের কালিমাকে মুছে ফেলা যায় ঠিক পেনিসলের কালি মোছার মতোই। এজন্য শর্ত হলো আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হয়ে নিখাঁদভাবে মিনতি করে তাওবা করা। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যদি কেউ গুনাহ করে ফেলে, তারপর পবিত্রতা অর্জন করে। দুই রাকাত সালাত আদায় করে; আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩২৭৬)।

আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করলে আল্লাহ খুশি হন কেননা তিনি পরম করুণাময় অসীম দয়ালু। আল্লাহ চান বান্দাকে ক্ষমা করতে। এ সম্পর্কে হাদিস শরিফে এসেছে, ‘তোমাদের কোনো ব্যক্তি হারানো পশু পাওয়ার কারণে যে পরিমাণ খুশি হয়, তোমাদের কারোর তাওবার কারণে আল্লাহতায়ালা এর চেয়েও অধিক খুশি হন’ (সহিহ মুসলিম)।

শয়তানের চক্রান্ত-কূটকৌশল ইমানের জন্য মারাত্মক রকম হুমকির। এ ধরার প্রতিটি পদে পদে-রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিছানো আছে ইনসানকে বিপথগামী করার মায়াজাল। একটু অসচেতন হলেই হতে পারে বিপদ। শয়তানের মায়াজালে আটকা পড়ে কেউ যদি পাপের অকূল দরিয়ায় দিগভ্রান্ত হয়ে ভাসতে থাকে মহান রব তাকে ছেড়ে যাবেন না। তাকে তাওবার মাধ্যমে সরল পথে ফেরার ইশতেহার দিয়েছেন।

আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদাররা, তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর, খাঁটি তাওবা; আশা করা যায়, তোমাদের রব তোমাদের পাপগুলো মোচন করবেন এবং তোমাদের এমন জান্নাতগুলোয় প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নহরগুলো প্রবাহিত’ [সূরা আত-তাহরিম : ৮]। আসুন, পাপের শহর থেকে ইউটার্ন নিয়ে ফিরে যাই রবের দেশে। ডুবে যাই আল্লাহর প্রেম দরিয়ায়।