হে আল্লাহ, আমায় ক্ষমা করে দাও।

গুনাহ মাফের যতগুলো উপায় আছে সেগুলোর মধ্যে একটি বড় অংশ হচ্ছে দু'আ। পূর্বের আলোচনায় বিভিন্ন পয়েন্টের অধীনে বেশ কিছু দু'আ ও জিকির উল্লেখ করা হয়েছে যা হাদীসে বর্ণিত সময়ে ও সংখ্যায় পাঠ করলে গুনাহ মাফ হওয়ার কথা রয়েছে। আমরা উপরের আলোচনায় শুধু সে সকল দু'আই উল্লেখ করেছি যেগুলো সম্পর্কে হাদীসে গুনাহ মাফের কথা বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এর বাইরেও কুরআন ও হাদীসে অনেক দু'আ আছে যেগুলোতে গুনাহ মাফের প্রার্থনা বর্ণিত হয়েছে অথচ সেগুলোতে কী পরিমাণ গুনাহ মাফ হবে সে কথা বর্ণিত হয়নি। তারপরও যেহেতু সেই দু'আগুলো কুরআন ও গ্রহণযোগ্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে সেহেতু আমরা সেই দু'আগুলোসহ উপরের আলোচনায় উল্লিখিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু দু'আ এই অধ্যায়ে উল্লেখ করা হলো, যাতে পাঠকগণ এই দু'আগুলো সহজেই খুঁজে পান এবং মুখস্থ করে দু'আগুলো করতে পারেন।

ও আল্লাহ, আমায় ক্ষমা করে দাও
হে আল্লাহ, আমায় ক্ষমা করে দাও
১. উচ্চারণ : রব্বি ইন্নী যলামতু নাফসী ফাগফিরলী।

অর্থ : হে আমার রব, নিশ্চয় আমি আমার নফ্সের প্রতি যুল্ম করেছি, সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন।

২. উচ্চারণ : আনতা ওয়ালিয়্যুনা- ফাগফিরলানা- ওয়ারহামনা- ওয়া আনতা খাইরুল গা-ফিরীন।

অর্থ : আপনি আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আমাদের ক্ষমা করে দিন এবং আপনি উত্তম ক্ষমাশীল।

৩. উচ্চারণ : রব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খাইরুর্ র-হিমীন।

অর্থ : হে আমাদের রব! আপনি ক্ষমা করুন, দয়া করুন এবং আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।[3]

৪. উচ্চারণ : রব্বানা- আতমিম লানা- নূরানা- ওয়াগফিরলানা- ইন্নাকা ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর।

অর্থ : হে আমাদের রব, আমাদের জন্য আমাদের আলো পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় আপনি সর্ববিষয়ে সর্বক্ষমতাবান।

৫. উচ্চারণ : সামি‘না- ওয়া আত্বা‘না- গুফরা-নাকা রব্বানা- ওয়া ইলাইকাল মাসীর।

অর্থ : আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনারই (নিকট) ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।

৬. উচ্চারণ : রব্বানা- তাক্বববাল মিন্না- ইন্নাকা আন্‌তাস্ সামী‘উল ‘আলীম। ওয়াতুব ‘আলায়না-, ইন্নাকা আনতাত্ তাওওয়া-বুর্ রহীম।

অর্থ : ‘হে আমাদের রব্! আপনি আমাদের পক্ষ হ’তে এটি কবূল করুন। নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ’। ‘আমাদের ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি অধিক তওবা কবূলকারী ও দয়াময়’।

৭. ভুল-ভ্রান্তি কোন কাজ হয়ে গেলে তা থেকে ক্ষমা প্রার্থনার দু‘আ :

উচ্চারণ : রব্বানা- লা- তুআ-খিযনা ইন্নাসীনা- আও আখত্বা’না-।

অর্থ : ‘হে আমাদের রব্! আমাদের দায়ী করেন না যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি’।

৮. কোন কাজ সহজ হওয়া ও কাজ সম্পাদনে ভুল-ত্রুটি ক্ষমা চাওয়া এবং বরকত চাওয়ার দু‘আ:

উচ্চারণ : রব্বানা- ওয়ালা- তাহমিল ‘আলায়না ইসরান কামা- হামালতাহূ ‘আলাল্লাযীনা মিন ক্ববলিনা- রব্বানা- ওয়ালা- তুহাম্মিলনা- মা-লা- ত্বা-ক্বাতা লানা- বিহী, ওয়া‘ফু ‘আন্না- ওয়াগফির লানা- ওয়ারহামনা- আনতা মাওলা-না- ফানসুরনা- ‘আলাল ক্বওমিল কা-ফিরীন।

অর্থ : ‘হে আমাদের রব্! আমাদের ওপর ভারী ও কঠিন কাজের বোঝা অর্পণ করেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তী লোকেদের ওপর অর্পণ করেছিলে। হে আমাদের রব্! আমাদের ওপর এমন কঠিন দায়িত্ব দিয়েন না যা সম্পাদন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের পাপ মোচন করুন, আমাদের ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। তুমিই আমাদের রব্! সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন’।

৯. গুনাহ মাফ ও জাহান্নামের ‘আযাব থেকে বাঁচার দু‘আ :

উচ্চারণ : রব্বানা- ইন্নানা- আ-মান্না- ফাগফিরলানা- যুনূবানা- ওয়াক্বিনা- ‘আযা-বান্ন-র।

অর্থ : ‘হে আমাদের রব্! নিশ্চয় আমরা ঈমান এনেছি। অতএব আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের ‘আযাব হ’তে রক্ষা করুন’।

১০. জাহান্নামের ‘আযাব থেকে বাঁচার এবং ঈমানের সাথে মৃত্যুবরণ করার জন্য দু‘আ :

উচ্চারণ : রব্বানা- মা- খলাক্বতা হা-যা-বা-ত্বিলান, সুবহা-নাকা ফাক্বিনা- ‘আযা-বান্ন-র। রব্বানা- ইন্নাকা মান্ তুদখিলিন্না-রা ফাক্বদ্ আখযাইতাহূ, ওয়া মা- লিযযা-লিমীনা মিন্ আনসা-র। রব্বানা- ইন্নানা- সামি‘না- মুনা-দিআয় ইউনা-দী লিল ঈমা-নি আন্ আ-মিনূ বিরব্বিকুম ফা- আ-মান্না-, রব্বানা- ফাগফিরলানা- যুনূবানা- ওয়া কাফফির ‘আন্না- সাইয়িআ-তিনা- ওয়া ত্বওয়াফফানা- মা‘আল আবরা-র।

অর্থ : ‘হে আমাদের রব্! তুমি এগুলিকে অনর্থক সৃষ্টি করেননি। মহা পবিত্র আপনি। অতএব আপনি আমাদেরকে জাহান্নামের ‘আযাব থেকে বাঁচান’! ‘হে আমাদের রব্! নিশ্চয় আপনি যাকে জাহান্নামে নিষ্পাপ করেন, তাকে আপনি লাঞ্ছিত করব। আর সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্যে তো কোন সাহায্যকারী নেই’। ‘হে আমাদের রব্! নিশ্চয় আমরা একজন আহবানকারীকে (মুহাম্মাদ) শুনেছি যিনি ঈমানের প্রতি আহবান করছেন এই বলে যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। অতঃপর সে মতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অতএব হে আমাদের রব্! আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করুন ও আমাদের দোষ-ত্রুটিসমূহ মার্জনা করুন এবং আমাদেরকে সৎকর্মশীলদের সাথে মৃত্যুদান করুন (অর্থাৎ তাদের মধ্যে শামিল কর)’।

সাইয়েদুল ইস্তেগফার ক্ষমা প্রর্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া

যে ব্যক্তি দিনে (সকালে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ ইস্তেগফার পড়বে আর সন্ধ্যাহবার আগেই সে মারা যাবে, সে জান্নাতী হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে(প্রথম ভাগে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ দু'আ পড়েনেবে আর সে ভোর হবার আগেই মারা যাবে সে জান্নাতী হবে।

لا إلهَ إِلا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِمَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوْهُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْلِيْ، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

আল্লা-হুম্মা আনতা রাব্বী, লা ইলা-হা ইল্লা আনতা খালাক্বতানী, ওয়া আনা ‘আবদু, ওয়া আনা 'আলা 'আহদিকা ওয়া আ'দিকা মাসতাত্বা'তু, আ'ঊযুবিকা মিন শার্রি মা ছানা'তু। আবূউ লাকা বিনি'মাতিকা 'আলাইয়া ওয়া আবূউ লাকা বিযাম্বী, ফাগফিরলী ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা।

হে আল্লাহ! তুমি আমার পালনকর্তা। তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার দাস। আমি আমার সাধ্যমত তোমার নিকটে দেওয়া অঙ্গীকারে ও প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ় আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট হ'তে তোমার নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আমার উপরে তোমার দেওয়া অনুগ্রহকে স্বীকার করছি এবং আমি আমার গোনাহের স্বীকৃতি দিচ্ছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা কর। কেননা তুমি ব্যতীত পাপসমূহ ক্ষমা করার কেউ নেই'। সহীহ বুখারী : ৬৩