আল্লাহর প্রিয় বাক্য ও আমল

আল্লাহর কাছে প্রিয় বাক্যের তালিকা
আল্লাহর কাছে প্রিয় বাক্যের তালিক
আল্লাহর কাছে প্রিয় বাক্যের তালিকা:

  • সোবহানাল্লাহ।
  • আলহামদুলিল্লাহ।
  • আল্লাহু আকবার
  • লাইলাহা ইল্লাল্লাহ।
  • আস্তাগফিরুল্লাহ৷
  • লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ। 
  • সুবহানাল্লাহি বিহামদিহি
  • সুবহানাল্লাহি আজিম।
  • লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, লাহুল মুলক ওয়ালাহুল হামদু, ওয়াহুয়া আলা কুলি শাইয়িন কাদির। 
  • লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ্ব যালিমিন।
  • আল্লাহর গুণবাচক নামের জিকির (৯৯ নাম)। যে ব্যক্তি এ (নাম) গুলোর হেফাজত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আল্লাহ বিজোড়। তিনি বিজোড় পছন্দ করেন।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪১০)
  • সূরা হাশরের শেষ আয়াত
  • সূরা বাকারার শেষ আয়াত
  • সুরা তওবার শেষ আয়াত
  • সূরা কাহাফের শেষ আয়াত
  • সুরা মুলক শেষ আয়াত
  • আল ইমরানের শেষ আয়াত
মহান আল্লাহর একটি গুণবাচক নাম হলো ذُو الْجَلَالِ وَالْاِكْرَامِ ‘জুল জালালি ওয়াল ইকরাম’। এই নামের দুটি অংশ। প্রথম অংশ জুল জালাল অর্থ হলো- ‘সমস্ত সৃষ্টি জগতের অধিপতি; যিনি সৃষ্টিকুল থেকে ভয় পাওয়ার হকদার ও একমাত্র প্রশংসার যোগ্য; দ্বিতীয় অংশের অর্থ হলো- মহত্ব-বড়ত্ব-দয়া ও ইহসানের অধিকারী’। যেকোনো কাজ সুন্দরভাবে শেষ করার জন্য, কাজের ভালো ফলাফলের জন্য এবং দুনিয়ার ধন-দৌলত ও রিজিকের প্রশস্ততার জন্য এই নামের বেশি বেশি জিকির করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন আলেমরা। কেননা এই জিকিরের মাধ্যমে একসঙ্গে দুটি কাজ হয়। ১) মহামহিম আল্লাহর উচ্চমর্যাদার গুণকীর্তন ২) দয়াবান আল্লাহর দয়ার ভিখারি হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন।

দরুদ

আল্লাহ তাআলা দরুদ পাঠ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠান, হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরাও নবীর ওপর দরুদ পাঠাতে থাকো এবং উত্তম অভিবাদন (সালাম) পেশ করো।’ (সুরা আহজাব: ৫৬)

আল্লাহ তাআলার এই নির্দেশ একদিকে যেমন আল্লাহর কাছে তাঁর রাসুলের মর্যাদার প্রমাণ অন্যদিকে মুমিন বান্দার রহমত, বরকত ও অবারিত কল্যাণ লাভের অন্যতম উপায়। একজন মুমিনের সকল মাকসুদ লাভ হয় দরুদে।

আপনি যে কাউকে ভালাে কাজের পরামর্শ দিতে পারেন এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য বলতে পারেন। যে কোন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ব্যক্তিকে সান্তনা দিতে পারেন, অথবা রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দিতে পারেন, অথবা কিছু সংখ্যক মানুষের সাথে মুসাফাহা করতে পারেন। আর এর প্রত্যেকটি কাজে আপনার মাত্র ১ মিনিট করে সময় লাগবে। অল্প সময়ের এই ধরনের সৎকর্মে আপনি প্রচুর নেকী অর্জন করতে পারেন। ইনশাআল্লাহ।

আমরা চাইলে যতখুশি যিকির ও দোয়া করতে পারি। আল্লাহ তায়ালা কিছু জিকিরকে অত্যন্ত পছন্দ করেন। বিধায় যখনই সময় পাওয়া যায় তখন, কিংবা হাঁটা-চলা অবস্থায় বা গাড়ীতে বসা অবস্থায়, অথবা শােয়া বা দাঁড়ানাে অবস্থায়, অথবা কারাে জন্যে অপেক্ষায় বা কোন কাজের জন্যে লাইনে দাঁড়ানাে অবস্থায়, উল্লেখিত জিকিরগুলাে অনায়াসে করতে পারেন। যা করার জন্য ওযুর প্রয়োজন নেই, নেই কোনকষ্ট, নেই পরিশ্রম।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্‌ বলেছেনঃ  

“তােমরা আমাকে স্মরণ কর, আমি তােমাদেরকে স্মরণ করব।”(সুরা বাকারা আয়াত :১৫২)।

দুনিয়া ও আখেরাতে শান্তি এবং মুক্তির অন্যতম উপায় হচ্ছে অন্তরে আল্লাহর যিকির। বেশী বেশী করে মহান আল্লাহর জিকির করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ পাক বলেন, 

“হে ঈমানদার, তােমরা আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করবে।” (সুরা আযহাব আয়াত, ৪১-৪২)।

সদা সর্বদা আল্লাহর জিকির করার নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, 

“তােমার প্রতিপালককে মনে মনে সবিনয় ও সশঙ্কচিত্তে অনুচ্চ স্বরে প্রত্যয়ে ও সন্ধ্যায় স্মরণ করবে এবং তুমি উদাসীন হবে না।”(সুরা তহা,আয়াত, ১৪)। 

আল্লাহর রাসুল (সঃ) যিকিরের গুরুত্ব উপলব্ধি করে সকল অবস্থায়ই আল্লাহর যিকির করতেন। হযরত আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসুল (সঃ) সকল অবস্থায় যিকির করতেন।(মুসলিম)।

আল্লাহর কাছে প্রিয় ৩টি আমল:

১. সময়মতো নামাজ আদায় করা: 'নামাজ' হচ্ছে ঈমানের পর আল্লাহর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হুকুম।

২. মাতাপিতার সঙ্গে সদাচরণ করা: দ্বিতীয় যে গুরুত্বপূর্ণ আমল সম্পর্কে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন তা হলো-'মাতাপিতার সঙ্গে সদাচরণ করা।

৩. আল্লাহর পথে সংগ্রাম করা: তৃতীয় নেক আমল সম্পর্কে নবী করিম (সা.) বলেন, 'আল্লাহর পথে সংগ্রাম করা।