কি কারনে কখনোই হতাশ হবেন না?

আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আল্লাহ যা ওয়াদা করেন তাই পুরোন করেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বিশ্বাসীদের উদ্দেশ্য করে ২৫টি ওয়াদা করেছেন। অর্থাৎ যারা বিশ্বাসী হয়েছেন আল্লাহ তাদের জন্যে কিছু পুরস্কার ও সাহায্যের ওয়াদা করেছেন এবং তা অবশ্যই আল্লাহ পুরোন করবেন। তাই হতাশ হবার কোন কারন নেই।

কারন আল্লাহ বলেনঃ “আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আল্লাহ প্রতিশ্রুতির খেলাফ করেন না।” সুরা যুমার আয়াত ২০

হতাশ হবেন না
হতাশ হবেন না

এখন আসুন দেখে নেই আল্লাহর সেই ওয়াদা গুলো কি কি !!

(১) জান্নাতের ওয়াদা। 

আল্লাহ বলেনঃ

“আর হে নবী (সাঃ), যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজসমূহ করেছে, আপনি তাদেরকে এমন বেহেশতের সুসংবাদ দিন, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহমান থাকবে। যখনই তারা খাবার হিসেবে কোন ফল প্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে, এতো অবিকল সে ফলই যা আমরা ইতিপূর্বেও লাভ করেছিলাম। বস্তুতঃ তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে। এবং সেখানে তাদের জন্য শুদ্ধচারিনী রমণীকূল থাকবে। আর সেখানে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে।” [সুরা বাকারাঃ২৫]

অর্থাৎ যারা ইমান আনবেন তাদের জন্যে রয়েছে জান্নাত। এটা আল্লাহর ওয়াদা।

(২) নুর বা আলো

হাসরের ময়দানে যখন পুলসিরাত পার করতে বলা হবে তখন থাকবে অন্ধকার, ঘুট ঘুটে অন্ধকার। যদি আল্লাহ আলো না দেন তাহলে সেই পুলসিরাত পার হওয়া হবে অসম্ভব। তাই দুনিয়াতে যারা বিশ্বাসী ছিল বা যারা ইমান এনেছিল তাদের ইমানের আলোই তখন পুলসিরাত পার করতে কাজে লাগবে। এখন যেটা আধ্যাতিক আলো তখন সেটাই হবে বাহ্যিক আলো। আল্লাহ মুমিনদেরকে সেইদিন তাদের ইমানের আলো দেওয়ার ওয়াদা দিয়েছেন আল্লাহ বলেনঃ যেদিন আপনি দেখবেন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদেরকে, তাদের সম্মুখ ভাগে ও ডানপার্শ্বে তাদের জ্যোতি ছুটোছুটি করবে বলা হবেঃ আজ তোমাদের জন্যে সুসংবাদ জান্নাতের, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, তাতে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য। সুরা আল হাদিদঃ১২

(৩) আল্লাহ আপনার সাথে থাকবে

আল্লাহ বলেনঃ “জেনে রেখ আল্লাহ রয়েছেন ঈমানদারদের সাথে। সুরা আনফালঃ১৯

যখন আল্লাহ বলেন আল্লাহ বিশ্বাসীদের সাথে আছে, তার মানে হচ্ছে বিশ্বাসীদের আর কারও প্রয়োজন নেই। তাদের জন্যে আল্লাহই যথস্ট।

(৪) আল্লাহর অনুগ্রহ আল্লাহর করুনার ওয়াদা করেছেন

আল্লাহ বলেনঃ ...আল্লাহর মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহশীল। সুরা আল ইমরানঃ ১৫২

আল্লাহর দয়া, তার করুনা অসীম। আমরা যে টুকু দয়া বা করুনা পাওয়ার যোগ্য তার থেকে হাজার গুন বেশি অনুগ্রহ আল্লাহ আমাদের প্রতি প্রদর্শন করে।

আল্লাহ আরও বলেনঃ “... মুমিনদের সাহায্য (বিজয়) করা আমার দায়িত্ব।”সুরা আর রুমঃ ৪৭

(৫) আল্লাহ মুমিনদের রক্ষা করার এবং তার বন্ধুত্বের ওয়াদা করেছেন আল্লাহ বলেনঃ “নিশ্চয়ই ঐ সব লোক ইবরাহীমের নিকটতম যারা তার অনুগামী হয়েছেন আর এই নবী এবং মুমিনগন এবং আল্লাহ তা'আলা বিশ্বাসীগণের বন্ধু।” সুরা আল ইমরানঃ৬৮

অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা বলছেন যে তিনি বিশ্বাসীদের বন্ধু। সুতরাং আল্লাহর বন্ধুত্বের ওয়াদা পাওয়ার পর একজন বিশ্বাসীর আর কি বা চাওয়ার থাকতে পারে!!!

(৬) আল্লাহ তার রহমতের ওয়াদা করেছেন (কারন আল্লাহ হচ্ছেন রাহমান)

মহান আল্লাহ বলেনঃ “যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকর্ম করেছে, তাদেরকে তাদের পালনকর্তা স্বীয় রহমতে দাখিল করবেন। এটাই প্রকাশ্য সাফল্য।” সুরা আল-যাসিয়াঃ৩০

আল্লাহ বিশ্বাসীদের ওপর তার রহমত বর্ষণ করবেন। আর আল্লাহর রহমত ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।

(৭) বিজয়-সফলত

আল্লাহ বিশ্বাসীদেরকে দুনিয়া এবং আখিরাতে বিজয় দানের ওয়াদা করেছেন । আল্লাহ বলেনঃ “ নিশ্চই আমি সাহায্য করব রসূলগণকে ও মুমিনগণকে পার্থিব জীবনে ও সাক্ষীদের দন্ডায়মান হওয়ার দিবসে।” সুরা গাফির আয়াত৫১

আল্লাহ আরও বলেনঃ “... মুমিনদের সাহায্য(বিজয়) করা আমার আল্লাহ আরও বলেনঃ “... মুমিনদের সাহায্য (বিজয়) করা আমার দায়িত্ব।”সুরা আর রুমঃ ৪৭

আল্লাহ বিশ্বাসীদেরকে বিজয়ের ওয়াদা করেছেন। তাই প্রথমে আপাত দৃষ্টিতে সময়িক ভাবে মনে হতে পারে যে বিশ্বাসীরা হেরে যাচ্ছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে শেষ পর্যন্ত জয় বিশ্বাসীদেরই হবে। কারন এটা আল্লাহর ওয়াদা। 

(৮) আল্লাহ বিশ্বাসীদের ভেতরের মন্দকে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন...

আল্লাহ বলেনঃ “আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আমি অবশ্যই তাদের মন্দ কাজ গুলো মিটিয়ে দেব এবং তাদেরকে কর্মের উৎকৃষ্টতর প্রতিদান দেব।” সুরা আনকাবুতঃ৭

আল্লাহ বিশ্বাসীদের ভেতর থেকে মন্দকে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন। কারন জান্নাত হচ্ছে পবিত্র স্থান এবং কোন অপবিত্র ব্যক্তি বা বস্তু জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। জাররাহ পরিমান গুনাহ বা অপবিত্রতা নিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করা অসম্ভব। নিজের গুনাহ থেকে সম্পূর্ন বিশুদ্ধ না হয়ে কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আর আল্লাহ কিছু পদ্ধতির মাধ্যমে বিশ্বাসীদেরকে গুনাহ থেকে পরিশুদ্ধ করেন আর সেই পদ্ধতি গুলো হলঃ তাওবা, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, রোগব্যাধি, কষ্ট, আরো অনেক পরিক্ষার সম্মুক্ষিন করে আল্লাহ বিশ্বাসীদেরকে বিশুদ্ধ করেন। আল্লাহ বিশ্বাসীদের মধ্যে কতককে এতটাই পছন্দ করেন যে তাদের কারও কারো গুনাহ বা অপরাধ আল্লাহ এই দুনিয়াতে গোপন রাখেন এবং পরকালেও গপন রাখবেন। এই ভাবেই আল্লাহ বিশ্বাসীদের ভেতর থেকে মন্দ নিশ্চিহ্ন করবেন।

(৯) আল্লাহর ভালোবাসা

আল্লাহ বলেনঃ “যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদেরকে দয়াময় আল্লাহ ভালবাসা দেবেন।” সুরা মারইয়ামঃ৯৬

বিশ্বাসীরা আল্লাহর ভালোবাসা পাবেন। এটাও আল্লাহর ওয়াদা

(১০) আল্লাহ ওয়াদা করেছেন বিশ্বাসীদের কোন ভালো কাজই ব্রিথা যাবে না...

“যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কার নষ্ট করি না।” সুরা কাহাফঃ৩০

মাঝে মাঝে মনে হয় যে সব কাজ বৃথা হয়ে যাচ্ছে তাই না। ধরেন দাওয়ার কাজ করতে অনেক সময়ই মনে হতে পারে যে নষ্ট হচ্ছে। কেউ কথা শুনছে না অথবা দাওয়ার ফলে কোন পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে না। সেই সময় মনে রাখতে হবে যে আল্লাহ মুমিনদের কোন কাজকেই বৃথা যেতে দিবে না। এবং আপনার এই দাওয়ার কাজের পুরষ্কার আল্লাহর কাছেই রয়েছে।